কান্না কি সত্যিই স্ট্রেস কমায়?

0
58

কান্নাকে দুঃখ এবং মানসিক দুর্বলতার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করা হয়। কিন্তু এটি শরীর ও মনকে মানসিক চাপ সামলাতে সাহায্য করার ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে, চোখের পানি ফেলা এমন কিছু শারীরিক ও মানসিক প্রক্রিয়াকে উদ্দীপ্ত করতে পারে যা স্বস্তি ও আরাম প্রদান করে।

কান্না কি মানসিক চাপ কমায়?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ধুলা বা পেঁয়াজের কারণে হওয়া চোখের পানির চেয়ে আবেগের কারণে হওয়া চোখের পানি আলাদা। এই পানিতে স্ট্রেস হরমোন এবং অন্যান্য রাসায়নিক পদার্থ থাকে, যা কোনো ব্যক্তি মানসিক যন্ত্রণায় ভুগলে তার শরীরে জমা হয়। কান্না শরীরকে সেই মানসিক চাপ কিছুটা কমাতে সাহায্য করে। আবেগের কারণে কান্না শরীরকে অক্সিটোসিন এবং এন্ডোজেনাস ওপিঅয়েড, যা সাধারণত এন্ডোরফিন নামে পরিচিত, নিঃসরণ করতে উদ্দীপ্ত করে, যা ব্যথা কমাতে এবং মেজাজ ভালো করতে পারে।

কান্না কীভাবে শরীরকে প্রভাবিত করে

কান্না একটি পরিমাপযোগ্য শারীরিক প্রতিক্রিয়াও সৃষ্টি করে। যখন একজন ব্যক্তি কাঁদে, তখন শরীর প্রায়শই ‘ফাইট-অর-ফ্লাইট’ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসে। কান্না চলতে থাকলে, এটি প্যারাসিমপ্যাথেটিক স্নায়ুতন্ত্রকে উদ্দীপিত করে। এর ফলে হৃদস্পন্দন কমে যায়, শ্বাস-প্রশ্বাস ধীর হয়ে যায় এবং শরীর ‘বিশ্রাম ও হজম’ অবস্থায় চলে যায়। অন্যদিকে, কান্না চেপে রাখলে মানসিক উত্তেজনা দীর্ঘায়িত হতে পারে। কান্নার প্রতিক্রিয়াকে স্বাভাবিকভাবে চলতে দিলে শরীর শান্ত ও স্থির থাকে।

তবে কান্না মানেই সবসময় মানসিক চাপ থেকে মুক্তি নয়। যদি ঘন ঘন কান্না আসে, তা অনিয়ন্ত্রিত মনে হয় বা দৈনন্দিন জীবনকে প্রভাবিত করতে শুরু করে, তবে এটি বিষণ্ণতা বা অন্য কোনো মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। সেক্ষেত্রে একজন মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলা একটি ভালো পদক্ষেপ।

কান্না কি মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ভালো?

হার্ভার্ড হেলথের মতে, কান্না একটি গুরুত্বপূর্ণ সেফটি ভালভ। এর কারণ হলো, কান্না আমাদের কঠিন অনুভূতিগুলো থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করে। কান্না ভেতরে আটকে থাকলে তা আমাদের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, কান্না আটকে রাখলে তা দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা, হৃদরোগ এবং উচ্চ রক্তচাপের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা যেমন চাপ, উদ্বেগ এবং বিষণ্ণতার সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়াও গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, কান্না পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় করে, বন্ধু ও পরিবারের কাছ থেকে ঘনিষ্ঠতা, সহানুভূতি ও সমর্থন বাড়াতেও কাজ করে।