আলঝেইমার রোগ এক ধরনের বার্ধক্যজনিত ও সুস্পষ্ট কারণবিহীন স্নায়বিক অবক্ষয়মূলক রোগ। এটি হলো ডিমেনশিয়ার একটি সাধারণ রূপ ও মস্তিস্কের ক্ষয়জনিত রোগ। এই রোগে আক্রান্ত হলে মস্তিষ্কের কোষগুলো আস্তে আস্তে মারা যায়।
সাধারণত ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের মধ্যে এই রোগ দেখা দেয়। আবার কোনো ক্ষেত্রে কম বয়সী মানুষের মধ্যেও এই রোগ হতে পারে। আলঝেইমার রোগ আক্রান্তরা প্রথমে সামান্য বিভ্রান্ত হয় এবং অনেক কিছু ভুলে যেতে শুরু করে।
আলঝেইমার কেন হয়?
১. আলঝেইমার রোগের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ এখনও অজানা। তবে ধারণা করা হয়, আক্রান্ত ব্যক্তিদের এক ধরনের প্রোটিনের উৎপন্নের কারণে মস্তিষ্কের কোষ বা সেলের মৃত্যু হয় যার ফলে এই রোগ দেখা দেয়।
২. পারিবারিক ইতিহাস অর্থাৎ অনেক সময় পরিবারের কেউ যদি এই রোগ হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে আলঝেইমার হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
৩. জেনেটিক কারণেও আলঝেইমার হয় অর্থাৎ কিছু জিন আলঝেইমার রোগের সাথে যুক্ত রয়েছে।
৪. পূর্বে মস্তিষ্কে কোন আঘাত পেয়ে থাকলে এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
৫. এ ছাড়া বিষণ্ণতা, ধূমপান, হৃদরোগের কারণেও অনেকে আলঝেইমার রোগে আক্রান্ত হন।
আলঝেইমারের লক্ষণ
আলঝেইমার রোগ একটি দীর্ঘস্থায়ী চলমান অবস্থা। এর লক্ষণগুলি ধীরে ধীরে প্রকাশ পায়। আলঝেইমারের প্রধান লক্ষণ হচ্ছে ভুলে যাওয়া। তবে আক্রান্ত ব্যক্তিরা কিছু নির্দিষ্ট আচরণ এবং লক্ষণ প্রদর্শন করে যা সময়ের সাথে সাথে আরও খারাপ হয়।
১. স্মৃতিশক্তি হ্রাস পাওয়া।
২. যেকোন সমস্যা সমাধানে অসুবিধা হওয়া বা সহজ সমস্যা সমাধান করতে না পারা।
৩. সময় বা স্থান সম্পর্কে দিশেহারা হয়ে পড়া
৪. আক্রান্ত রোগীর দিন দিন স্বাস্থ্য কমে যাওয়া, এ ছাড়া মেজাজ এবং ব্যক্তিত্বের পরিবর্তন।
৫. বন্ধু, পরিবার এবং প্রতিবেশীদের কাছে থেকে দূরে দূরে থাকা, একা থাকতে স্বাচ্ছন্দবোধ করা।
তবে ব্যক্তিভেদে লক্ষণ অনেক সময় ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে।
আলঝেইমার নির্ণয় পদ্ধতি
আলঝেইমারের কোন প্রতিকার বা চিকিৎসা এখন পর্যন্ত নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া আলঝেইমার রোগের জন্য কোন নির্দিষ্ট পরীক্ষা নেই। মানসিক, শারীরিক, স্নায়বিক এবং ইমেজিং পরীক্ষার মাধ্যমে চিকিৎসক এই রোগ নির্ণয় করে থাকে।
এ ছাড়া এমআরআই স্ক্যান বা সিটি স্ক্যানের সাহায্যে মস্তিস্কের কোষের অবস্থা বা অস্বাভাবিক বৈশিষ্ট্যগুলি পরীক্ষা করে দেখে এই রোগ আছে কিনা নির্ণয় করা যেতে পারে।
আলঝেইমারের চিকিৎসা
আলঝেইমার রোগের জন্য কোন নির্দিষ্ট চিকিৎসা বা ওষুধ নেই। উপসর্গের উপর নির্ভর করে এই চিকিৎসা করা হয়ে থাকে।
১. প্রাথমিক থেকে মাঝারি আলঝেইমার রোগীর ক্ষেত্রে ডনেপেজিল (অ্যারিসেপ্ট) বা রিভাস্টিগমাইন (এক্সেলন) এর মতো ওষুধ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকরা। এই ওষুধগুলি মস্তিষ্কে উচ্চ মাত্রার অ্যাসিটাইলকোলিন বজায় রাখতে সাহায্য করে যা মস্তিষ্কের স্নায়ু কোষগুলিকে আরও ভালভাবে সংকেত পাঠাতে এবং গ্রহণ করতে সহায়তা করে।
২. মাঝারি থেকে শেষ পর্যায়ের আলঝেইমারের চিকিৎসার জন্য, চিকিৎসক ডনেপেজিল (অ্যারিসেপ্ট) বা মেম্যান্টাইন (নামেন্ডা) লিখে দিতে পারেন। মেম্যান্টাইন মস্তিষ্কের কোষ ক্ষতিকারী অতিরিক্ত গ্লুটামেটের প্রভাব ব্লক করতে সাহায্য করে।
৩. এ ছাড়া বিষণ্ণতা, ইনসোমিয়া, হ্যালুসিনেশনের ওপর নির্ভর করে বিভিন্ন রকমে ওষুধ ও চিকিৎসা দেয়া হয়ে থাকে।
আলঝেইমারের অন্যান্য চিকিৎসা
ওষুধ ছাড়াও জীবনধারা পরিবর্তনের মাধ্যমে আলঝেইমারের চিকিৎসা করা হয়ে থাকে।
১. প্রতিদিন পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেয়া।
২. শান্ত পরিবেশে থাকা ও পর্যাপ্ত ব্যায়াম করা।
৩. সুষম, পুষ্টিকর খাদ্যাভাস বজায় রাখা
৪. মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি খেয়াল রাখা। অতিরিক্ত স্ট্রেস বা বিষণ্ণতা দূর করা।
৫. পরিবার, মানুষ, প্রতিবেশী সবার সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা।
সূত্র: হেলথলাইন






