ভারতের বিখ্যাত হাসপাতালের চিকিৎসক যেখানে ঝুঁকি নিয়ে অস্ত্রোপচার করতে অস্বীকার করেছিল। সেখানে বাংলাদেশের চিকিৎসক ভিন্নরকম চিকিৎসাকৌশলে নতুন জীবন পেল শিশুটি। ব্রেইনের গভীরে বিপজ্জনক ‘ক্যাভারনোমা’ (Cavernoma) নামক রক্তনালীর টিউমারে আক্রান্ত এই শিশুটি কোনো ধরনের পক্ষাঘাত বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই এখন পুরোপুরি সুস্থ।
শিশুটির মাথায় মারাত্মক ব্রেইন টিউমার শনাক্ত হওয়ার পর স্বজনরা তাকে প্রথমে দেশেই একজন চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। তবে সেই চিকিৎসক পরামর্শ দেন এটি দেশে সম্ভব নয় এবং ভারতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। এরপর পরিবারটি ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের ভেলোরে অবস্থিত বিশ্বখ্যাত ক্রিশ্চিয়ান মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে (সিএমসি) পাড়ি জমায়।
তবে সিএমসি-র চিকিৎসকেরা পরীক্ষার পর স্পষ্ট জানিয়ে দেন, অস্ত্রোপচার করলে শিশুটির শরীরের ডানপাশ স্থায়ীভাবে অবশ বা প্যারালাইজড হয়ে যাওয়ার শতভাগ ঝুঁকি রয়েছে। কোনো আশা না দেখে চরম হতাশা ও দুশ্চিন্তা নিয়ে ভেলোর থেকে দেশে ফিরে আসে শিশুটির পরিবার।
সব দুশ্চিন্তার অবসান ঘটিয়ে শিশুটির জীবন বাঁচানোর এই কঠিন চ্যালেঞ্জটি গ্রহণ করেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউরোসার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এবং মাইক্রোসকপিক ও এন্ডোসকপিক নিউরোসার্জন ডা. রকিবুল ইসলাম রকিব। তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে শিশুটির ব্রেইনে সফল মাইক্রোসার্জারি পরিচালনা করেন।
ডা. রকিবুল ইসলাম রকিব বলেন, ‘শিশুটির ব্রেইনের গভীরে Cavernoma নামক টিউমারটি অবস্থান করছিল। সাধারণভাবে বা প্রচলিত কৌশলে (Common Technique) এই টিউমার অপসারণ করতে গেলে ডান পাশ প্যারালাইজড হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি ছিল, ভেলোরের চিকিৎসকদের আশঙ্কাটি সঠিক ছিল। তবে আমরা প্রচলিত পথের বাইরে গিয়ে একটি ভিন্ন পথ—’Long but safe route’ (দীর্ঘ কিন্তু নিরাপদ পথ) বেছে নিই। এই বিশেষ টেকনিক ব্যবহার করে আমরা শিশুটির মস্তিষ্ক বা স্নায়ুর কোনো ক্ষতি না করে পুরো ক্যাভারনোমা টিউমারটি সফলভাবে বের করে আনতে সক্ষম হয়েছি।’
অস্ত্রোপচার শেষে শিশুটি এখন সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত। চিকিৎসকদের প্রত্যাশা অনুযায়ী, শিশুটির ডান হাত ও পায়ের শক্তি ও স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা একদম অক্ষুণ্ণ রয়েছে এবং সে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছে। দেশের চিকিৎসকদের এমন অভাবনীয় সাফল্য দেশে উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা ও জটিল নিউরোসার্জারির ক্ষেত্রে এক নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।







