রোজা রাখার মানসিক স্বাস্থ্য উপকারিতা

0
29

রোজা রাখার ফলে আমাদের শরীর নানাভাবে উপকার লাভ করে, একথা এখন বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত। তবে এখানেই শেষ নয়, শারীরিক নানা উপকারিতার পাশাপাশি রোজা রাখার অনেকগুলো মানসিক স্বাস্থ্য উপকারিতাও রয়েছে। পুরো একমাস রোজা থাকার ফলে জীবনযাপনের অনেক বিষয়ই নিয়ন্ত্রণে চলে আসে, জন্মায় পরিমিতবোধ। রোজা মানুষকে আরও বেশি সংযত হতে শেখায়, শেখায় সহমর্মিতা। চলুন জেনে নেওয়া যাক, রোজা রাখার কিছু মানসিক স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে-

আধ্যাত্মিকভাবে

রমজান মাসে মানসিক স্বাস্থ্য আরও ধ্যানমগ্ন হয়ে ওঠে, যা আপনাকে দৈনন্দিন আরাম-আয়েশের সঙ্গে নিজেকে জড়িত করার পরিবর্তে আধ্যাত্মিক ক্ষমতায় প্রার্থনা এবং প্রতিফলিত করার সুযোগ দেয়। আত্ম-নিয়ন্ত্রণ এবং সংযম রোজার বিশাল কারণ, যা আল্লাহর সঙ্গে আপনার সংযোগকে শক্তিশালী করে। এর কারণ হলো আপনি আপনার যা প্রয়োজন তা সরবরাহ করার এবং আপনার চাহিদা দূর করার জন্য তাঁর ওপর আস্থা স্থাপন করেন।

আবেগগতভাবে

রমজানে গভীর ইবাদতে মগ্ন হওয়া একটি গভীর আবেগগত অভিজ্ঞতা হতে পারে। মনের শান্তি থেকে তৃপ্তি পর্যন্ত, রমজান হলো আল্লাহ আপনাকে যা উপহার দিয়েছেন তা উপলব্ধি করার উপযুক্ত সময়। ইফতারের মুহূর্তটি এমন একটি সময় যা পরিবারের সঙ্গে কাটানো উচিত, যার ফলে এক মাসের ত্যাগের পরে ভালোবাসা এবং সান্ত্বনার অনুভূতি তৈরি হয়।

অভ্যাসগতভাবে

প্রত্যেকেই খারাপ অভ্যাস বা আসক্তির জন্য দোষী, তা যত তীব্র বা ছোটই হোক না কেন। তাই রমজানে আমরা সবাই নিজেদের উন্নতির জন্য কিছু করতে পারি। ধূমপান ত্যাগ করা, অতিরিক্ত খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকা অথবা মিথ্যা বলা বন্ধ করা যাই হোক না কেন, রমজান হলো এই ইতিবাচক পরিবর্তনগুলো আনার আদর্শ সময়। যদি আপনি আপনার খারাপ অভ্যাসগুলো দূর করতে প্রস্তুত না হন, তাহলে আপনি রমজানকে একগুঁয়েমি বা পরচর্চার মতো অপ্রীতিকর ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্যর বিরুদ্ধে লড়াই করার সময় হিসাবে বেছে নিতে পারেন।

মুসলমানদের উচিত রমজানের সুবর্ণ সুযোগ কাজে লাগিয়ে সমস্ত খারাপ ও ক্ষতিকর অভ্যাস ত্যাগ করা, যার ফলে জীবনযাত্রা উন্নত হবে। জীবনযাত্রার উন্নতির পাশাপাশি স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও আপনি রমজানের রোজার উপকারিতা অনুভব করতে পারবেন।