দীপিকা পাড়ুকোন যেভাবে নিজেকে সুস্থ রাখে

0
105

অনেকেই খাদ্যাভ্যাস, ডায়েট ও শরীরচর্চা নিয়ে সচেতন। তাঁদের অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে তারকার ডায়েট, শরীরচর্চা ও ফিট থাকা নিয়ে। কিভাবে একজন তারকা বছরের পর নিজের স্বাস্থ্যকে ফিট রাখতে পারেন।  তারকাদের জীবন দ্বারা আমরা প্রভাবিত হই, বিশেষ করে তাদের নিয়ম করে তৈরি করা শারীরিক গঠনের দ্বারা। জীবন যাপনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই থাকে নিয়মনীতি, যেমনটি থাকে তাদের দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায়। তেমনি এক বলিউড তারকার স্বাস্থ্য এবং খাদ্যাভ্যাসের খুটিনাটি নিয়ে এ সংখ্যার প্রতিবেদন –

দীপিকা পাড়ুকোন

ব্যায়ামটা তিনি নিয়ম মেনে নিয়মিতই করেন। সঙ্গে থাকে যোগব্যায়াম। খাবার বেলায় তাঁর শেষ শব্দ ‘স্বাস্থ্যকর’ আর চিন্তাধারা সব সময় ইতিবাচক। এ সবকিছুই তাঁকে সুন্দর করে তুলেছে বলে জানিয়েছেন বলিউডের তারকা অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোন। দীপিকার আরেকটি পরিচয়, তিনি রাজ্য পর্যায়ের ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড়। দেশি কিংবা পশ্চিমা, যেকোনো পোশাকেই চমৎকার মানিয়ে যাওয়া পাঁচ ফুট নয় ইঞ্চির দীপিকা কঠোর নিয়মের মধ্যে থাকেন।

শরীরচর্চা

দীপিকার সকালটা শুরু হয় ভোর ছয়টায়। এরপর বাগানে কিছুক্ষণ যোগব্যায়াম আর খালি হাতে শরীরচর্চা করেন। নিয়মিত জিমে যাওয়াটা আবশ্যক মনে করেন না তিনি। বরং ঘরে মাদুর পেতে খালি হাতে কিছু ব্যায়াম সেরে নেন। হালকা ভারোত্তলন করে থাকেন বেশির ভাগ সময়। তবে যোগব্যায়ামটা দারুণ উপভোগ করেন। একটা দিনও বাদ যায় না। এরপরেই আধঘণ্টার জন্য হাঁটতে বের হন দীপিকা। তবে সবকিছুর ঊর্ধ্বে নাচতে পছন্দ করেন তিনি। এতে শরীর-মন দুটোই চাঙা হয়ে ওঠে।

খাদ্যাভ্যাস

খাবার কে না পছন্দ করে! দীপিকাও করেন, তবে পরিমিত পরিমাণে। খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলেছেন খুব হিসাব করে। সকালের নাশতায় দুটি ডিমের সাদা অংশ, সঙ্গে থাকে লো-ফ্যাট দুধ। দুপুরের খাবারে প্রচুর শাকসবজি খান। এর বাইরে মাছটা খাওয়া হয় বেশি। বিশেষ করে গ্রিলড, এতে চর্বি কম থাকে। বিকেলের নাশতায় কফির সঙ্গে কাজুবাদাম। রাতে সব সময় হালকা খাবার, সালাদ-সবজি-রুটি। প্রতি দুই ঘণ্টা অন্তর হয় তাজা ফল, নয়তো ফলের রস পান করেন দীপিকা। এমনভাবে খাবার নির্বাচন করেন যেন সব ধরনের পুষ্টিগুণ পাওয়া যায়।

দীপিকা পাড়ুকোন শুধু সফল নায়িকা নন। সংসার থেকে স্বাস্থ্য, সবেতেই সমান ভাবে মন দেন তিনি। তাই তো এমন টানটান চেহারা। তবে ব্যস্ত জীবনে খুব কঠিন উপায়ে নিজের যত্ন নেওয়া তাঁর পক্ষেও সম্ভব নয়। রোজের জীবন তাই বেঁধে ফেলেছেন কিছু সাধারণ নিয়মে। নিয়মগুলো আপনিও অনুসরণ করতে পারেন তাতে স্বাস্থ্যরক্ষা সহজ হবে। সচল থাকবে শরীর।

১) রোজের ব্যায়ামের সময়ে দীপিকা পালাটেজ করেন। সাধারণ ব্যায়ামের সঙ্গে পালাটেজ করেন বলেই এমন টানটান রয়েছে তাঁর চেহারা। নিজের বসা, চলার ভঙ্গি ঠিক করতে চাইলে আপনিও দীপিকার মতো পালাটেজ করতে পারেন।

২) তারকাদের ঝকঝকে জীবন দেখলে মনে হবে যেন তাঁরা যা ইচ্ছা করে, তা-ই খেতে পারেন। তা কিন্তু একেবারেই নয়। বরং দীপিকা সব সময়েই খাওয়াদাওয়ার বিষয়ে বেশ মাপা। ফল-সব্জি-শাক থেকে শুরু করে অন্যান্য সব খাবার— সবই নিয়ম করে প্রয়োজন মতো মেপে খান। আর কোনও বেলায় খাওয়া বাদ দেন না। কাজ যতই থাকুক না কেন।

৩) যাই করুন, নিয়মের বাইরে বেরোন না। আমাদের অনেক সময়ে মনে হয়, আজ কাজ বেশি, তাই ব্যায়াম করব না। এ সময়ে অন্য জায়গায় যেতে হবে, তাই দুপুরে খাব না। দীপিকা একেবারেই এ রকম নন। তারকাদের নানা জায়গায় দৌড়ে বেড়াতে হয়। কিন্তু সে সব সামলাতে হলেও কখনও নিজের নিয়মের বাইরে যান না নায়িকা।

৪) যোগ অভ্যাসে প্রবল বিশ্বাস অভিনেত্রীর। পালাটেজ হোক বা অন্য যে কোনও ধরনের ব্যায়াম করেন শরীরের জন্য। আর আসন করেন মনের জন্য। মন স্থির না থাকলে কাজ করে যাওয়া কঠিন। সে কথা সব সময়ে মনে রাখেন দীপিকা।

এই চারটি অভ্যাস যদি মেনে চলা যায়, তবে অনেকেই সচল, সুস্থ জীবনযাপন করতে পারেন।