কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি কাদের বেশি?

0
109
কিডনি
ছবি: সংগৃহীত

শরীরের ৭০ ভাগই পানি। আর এই পানিকে পরিশুদ্ধ করে রক্তের প্রবাহে অক্সিজেনের মাত্রা ঠিক রাখতে কাজ করে কিডনি। তবে কিডনিতে পাথর হলে এ কাজ অনেকটাই বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। আর এই কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকিতে কারা বেশি রয়েছেন, অনেকেই তা জানেন না।

বৃক্ক বা কিডনি মেরুদণ্ডী প্রাণিদেহের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, যা দেহের রেচনতন্ত্রের প্রধান অংশ। এর প্রধান কাজ রক্ত ছেঁকে বর্জ্য পদার্থ (যেমন: ইউরিয়া) পৃথকীকরণ ও মূত্র উৎপাদন।

কিন্তু এ কাজে অনেকটা ব্যাঘাত ঘটায় কিডনিতে তৈরি হওয়া পাথর। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পানি কম পান করা, খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাত্রায় অনিয়মসহ নানা কারণে যে কারোরই কিডনিতে পাথর জমতে পারে।
তবে পরিসংখ্যান বলছে, কিডনিতে পাথর হওয়ার দৌড়ে নারীর তুলনায় পুরুষরাই এগিয়ে আছেন। কেননা, বিশ্বে কিডনি রোগীর মোট সংখ্যায় নারীর তুলনায় পুরুষের সংখ্যা দ্বিগুণ।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের বরাতে জানা যায়, কেন পুরুষরা এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে বেশি রয়েছেন? এর কারণ হিসেবে চিকিৎসকরা বলছেন, কিডনিতে পাথর জমার প্রধান কারণ পানি কম পান করা। আর পানি কম খাওয়ার প্রবণতা নারীদের চেয়ে পুরুষদের মধ্যেই বেশি লক্ষ করা যায়।

কিডনিতে পাথর হওয়ার মূল কারণ শরীরে প্রয়োজনের বেশি ক্যালসিয়াম জমা। বেশি পরিমাণে ক্যালসিয়াম অক্সালেট আছে এমন খাবার বেশি খেলে কিডনিতে পাথর জমার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

যেসব খাদ্যে প্রচুর ক্যালসিয়াম অক্সালেট রয়েছে সেগুলো হলেঅ: খেজুর, বিভিন্ন ধরনের বেরি, কামরাঙার মতো ফল, পালং শাক, বিট, গাজর ইত্যাদি। এসব খাবার বেশি খাওয়ার প্রবণতা নারীদের তুলনায় পুরুষদের মধ্যেই বেশি লক্ষ করা যায়। তাই নারীদের তুলনায় পুরুষের কিডনিতেই পাথর বেশি জমে।

এ ছাড়া ধূমপান, নিয়মিত মদ্যপান, জীবনযাত্রায় অনিয়মের প্রবণতা পুরুষের মধ্যে নারীদের তুলনায় বেশি লক্ষ করা যায়। আর এ প্রবণতার কারণেই নারীদের তুলনায় পুরুষের কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বেশি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।