একাকিত্ব কি হৃদরোগের কারণ হতে পারে?

0
62

আপনি কি কখনো ভেবে দেখেছেন কেন বয়স্করা হৃদরোগে বেশি আক্রান্ত হন? যদিও বয়স, দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা এবং বিদ্যমান অসুস্থতা সবচেয়ে সাধারণ কারণ, তবে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা আমাদের বেশিরভাগই উপেক্ষা করি তা হলো একাকিত্ব এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতা। তাদের স্বাস্থ্য তাদেরকে শারীরিকভাবে এবং সামাজিকভাবে সক্রিয় থাকতে দেয় না, যার ফলে তারা বেশিরভাগ সময় বাড়িতেই আবদ্ধ থাকেন। এই একাকীত্ব তাদের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে এবং তাদেরকে হৃদরোগের ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।

একাকিত্ব এবং হৃদস্বাস্থ্যের মধ্যে সংযোগ

সোশ্যাল সায়েন্স অ্যান্ড মেডিসিন জার্নালে প্রকাশিত ২০২৫ সালের একটি গবেষণা একাকিত্ব এবং করোনারি হৃদরোগের ঝুঁকির মধ্যে সম্ভাব্য সংযোগ স্থাপন করেছে।

গবেষকদের মতে, একাকিত্ব এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতা উভয়েরই হৃদস্বাস্থ্যের উপর ভিন্ন ভিন্ন প্রভাব রয়েছে; তবে উভয়ই বিশ্বব্যাপী হৃদরোগে মৃত্যুর ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির জন্য দায়ী। একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে দীর্ঘস্থায়ী একাকিত্ব নিজেই করোনারি ব্লকেজের জন্য ঝুঁকির কারণ।

সামাজিক বিচ্ছিন্নতা কীভাবে হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করে

সামাজিক বিচ্ছিন্নতা এবং একাকিত্ব একটি দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে, যা শরীরকে fight-or-flight মোডে ফেলে দেয়। এর ফলে রক্তচাপ, প্রান্তীয় রক্তনালীর প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং প্রদাহ বৃদ্ধি পায়। ধীরে ধীরে এটি স্ট্রোক এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে।

সায়েন্টিফিক রিপোর্টস-এ প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুসারে, ৪৫ বছর বা তার বেশি বয়সী ৩৩%-এর বেশি মানুষ একাকিত্বে ভোগেন এবং ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী ২৫% প্রাপ্তবয়স্ক সামাজিক বিচ্ছিন্নতার সঙ্গে লড়াই করছেন। বেশ কয়েকটি গবেষণার মেটা-বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে একাকীত্ব এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতা হৃদরোগের ঝুঁকি ২৯% বাড়িয়ে দেয়।

একাকিত্বকে এমন একটি পর্যায় হিসাবে বর্ণনা করা হয় যেখানে একজন ব্যক্তি আগ্রহের অভাব বা অন্য কোনো কারণে অন্যদের থেকে বিচ্ছিন্ন বা একাকী বোধ করেন। একাকিত্ব সামগ্রিক স্বাস্থ্য এবং সুস্থতার ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে। ঝুঁকি এড়ানোর জন্য এর লক্ষণ ও উপসর্গগুলো চেনা জরুরি, বিশেষ করে বয়স্কদের ক্ষেত্রে।

একাকী মানুষেরা শূন্যতা পূরণ করতে এবং সময় কাটানোর জন্য তাদের অভ্যাসের প্রতি অতি-আসক্ত হয়ে পড়েন। তারা নিজের প্রতি যত্নশীল হন না। যার ফলে অগোছালো সাজসজ্জা, অসময়ে খাওয়া এবং অপরিকল্পিত সময়সূচী দেখা যায়। সামাজিক পরিমণ্ডল থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন এবং মানুষের থেকে দূরত্ব তৈরি করেন। অনিদ্রা এবং অন্যান্য ঘুমের সমস্যা দেখা দেয়। স্মৃতিশক্তি হ্রাস, মনোযোগের অভাব, মস্তিষ্কের জড়তা ইত্যাদিও দেখা দিতে পারে।