বড়দের থেকে অনেক চর্মরোগই হয় শিশুদের

0
170

বড়দের থেকে অনেক চর্মরোগই হয় শিশুদের, যা মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে
প্রতিবছর দেশে বাড়ছে চর্মরোগীর সংখ্যা। বড়দের মতো শিশুরাও আক্রান্ত হচ্ছে এ ধরনের রোগে। চিকিৎসকরা শঙ্কা জানিয়ে বলছেন, সচেতনতার অভাব এবং সার্বিক ত্বকের যত্ন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারনা না থাকায় অজান্তেই ক্ষতি হচ্ছে এ রোগে শিশুদের।

শিশুর শরীরে চুলকানি হচ্ছে। লাল হয়ে যাচ্ছে শরীরের বিশেষ বিশেষ অংশ। অথবা ইনফেকশন হয়ে পুঁজ বা ঘায়ের মত হচ্ছে। ঠান্ডার লাগার সঙ্গে মুখ লাল হয়ে যাচ্ছে। এগুলো হতে পারে মারাত্মক কোনো চর্মরোগের লক্ষ্মণ বলে জানান চিকিৎসকরা।

তাদের মতে, বড়দের অনেক চর্মরোগই হয় শিশুদের। এটপিক ডার্মাটাইটিসে আক্রান্ত হলে শিশুর মুখ, কনুই, হাঁটু লাল ঘায়ের মত হয়।

শিশুকে অনেকক্ষণ ডায়াপার পরিয়ে রাখলে বা এ ধরনের পণ্যে অ্যালার্জি মত হতে পারে ডায়াপার র‌্যাশ। মাইট নামক অতিক্ষুদ্র পোকার আক্রমণে খোসপাঁচড়া বা স্ক্যাবিস হয়। পোকাটি ত্বকের নিচে ডিম পেরে বংশ বৃদ্ধি করায়, দ্রুত সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে, এ রোগটি শিশুর জন্য পীড়াদায়ক হয়ে দাড়ায় বলে জানান তারা।

ভিটামিন ডি এর অভাবে অ্যাকজিমা হয়, শিশুদের ক্ষেত্রে যা মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে। ছত্রাকজনিত রোগ টিনিয়া বা দাউদ গরমে বেশি হলেও বছরজুড়েই থাকে তার প্রকোপ বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

চিকিৎসকরা শঙ্কা জানিয়ে বলছেন, সাধারণত জটিল পর্যায়ে আসা শিশুদের চিকিৎসার সময় লাগে অনেক। আবার অনেক ক্ষেত্রেই পুরোপুরি নির্মূল হবার আগেই ওষুধ নেয়া বন্ধ করায়, জীবাণু হয়ে ওঠে আরও বেশি শক্তিশালী। রোগ পৌঁছে যায় জটিলপর্যায়ে।

রাজধানীর ইব্রাহিম জেনারেল হাসপাতালের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ফারিয়া আফরিন বলেন, শিশুর স্বাস্থ্যের দিকে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে। সচারচর শিশুর ডায়াপার থেকে র‌্যাশ বের হয়। এছাড়াও শিশুর ব্যবহৃত পোশাক কাঁথা-বালিশ অপরিছন্ন হলে এ রোগ দেখা দিতে পারে। এছাড়াও বড়দের থেকেও এ রোগ হতে পারে। সেক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকরে পরামর্শ নিতে হবে। আর রোগ সেরে যাওয়া না পর্যন্ত চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে।

চিকিৎসকদের পরামর্শ, শুধু শীতকাল নয়, পুরো বছরজুড়েই যত্ন নিতে হবে শিশুর ত্বকের।