পোষা প্রাণীর চিকিৎসা

0
133
পোষা প্রাণী
ছবি: সংগৃহীত

শখ করে মানুষ পশু, পাখি পোষে। কারও পছন্দ কুকুর, কারও বা বিড়াল। আবার বিদেশি খাঁচার পোষাপাখি অনেকেরই প্রিয়। মানুষের মতো শখের পোষা প্রাণীর অসুখবিসুখ হয়। পোষা প্রাণীর চিকিৎসার জন্য এতদিন বেশ ঝামেলা পোহাতে হতো। কারণ, দেশে স্পেশালিস্ট পোষা প্রাণীর হাসপাতাল নেই।

ব্যক্তিগতভাবে অনেকেই পোষা প্রাণীর চিকিৎসা করেন। কিছু ক্লিনিকও গড়ে উঠেছে বিভিন্ন জায়গায়। কিন্তু এসব জায়গায় পরিপূর্ণ চিকিৎসা বলতে যা বোঝায়, তা নেই। অপারেশন করার আধুনিক ব্যবস্থা নেই। রোগ নির্ণয়ের সব পরীক্ষা-নিরীক্ষাও হয় না। ছোটখাটো সমস্যার সমাধান এসব জায়গায় গেলে হয়ে থাকে। পোষা প্রাণীপ্রেমীদের এসব সমস্যা অনেকটাই দূর করেছে কিছুদিন আগে চালু হওয়া টিচিং অ্যান্ড ট্রেনিং পেট হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার, যা পেট হসপিটাল নামেই বেশি পরিচিত।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আছেন। আছে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম। পোষা প্রাণীদের থাকার জন্য বেড আছে। দেখভালের জন্য আছেন নার্স। এই হাসপাতালটি চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস ইউনিভার্সিটির অধীনে রাজধানীর পূর্বাচল নিউটাউনের ১৮ নম্বর সেক্টরে প্লট ৫ বি, ১১৪ নম্বর সড়কে গড়ে উঠেছে। পূর্বাচলের ৩০০ ফুট রাস্তার দুই ধারের সবুজের সমারোহ আর পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর রাস্তা ধরে এগিয়ে গেলে পাওয়া যাবে হাসপাতালটি। নীলা মার্কেট পেরিয়ে মূল সড়ক থেকে বাঁ দিকে নেমে সরু রাস্তা ধরে এগোতে হয়। একাধিক সাইনবোর্ডে হাসপাতালে পৌঁছানোর দিকচিহ্ন রয়েছে।

বিশ্বমানের এ হাসপাতালে ডিজিটাল এক্স-রে, আলট্রাসনোগ্রাম, সর্বাধুনিক প্যাথলজি, অর্থোপেডিক সিয়াম মেশিন, অপারেশন থিয়েটার, ভ্যাক্সিনেশন এবং মেডিসিন কর্নার আছে। যুক্তরাষ্ট্রের টাফট বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক গ্রেগরি কুকুরের ক্যান্সারসহ কয়েকটি জটিল অপারেশন করেছেন। বিড়ালের পায়ে ব্যথাজনিত সমস্যা নিয়ে এ হাসপাতালে এসেছেন মরিয়ম বেগম। তিনি বলেন, এখানের চিকিৎসাসেবার মান ভালো। চিকিৎসকরা যত্নসহকারে চিকিৎসাকার্য সম্পাদন করেন। তার বিড়াল এখানকার চিকিৎসায় এখন অনেকটাই সুস্থ।

হাসপাতালটিতে কী ধরনের চিকিৎসার সুযোগ-সুবিধা আছে- এ প্রশ্নের জবাবে উপপ্রধান মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক আবদুল মান্নান বলেন, পেট হাসপাতালে ডিজিটাল এক্স-রে, আলট্রাসনোগ্রাম, ভ্যাকসিন দেওয়া, রক্ত পরীক্ষা করা ও অর্থোপেডিক সার্জারির ব্যবস্থা রয়েছে। শ্বাসকষ্ট হলে নেবুলাইজ করা হয়, অক্সিজেন দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে।

কুকুর, বিড়াল, কবুতর, খরগোশ, গিনিপিগ, বানর ইত্যাদি পশু নিয়ে মালিকরা আসেন হাসপাতালে। সবচেয়ে বেশি আনা হয় বিড়াল। এর পরই কুকুর। গত বছরের ২৮ অক্টোবর যাত্রা শুরু করার পর এ বছরের ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালটিতে তিন হাজার ৯টি পোষা পশুপাখির নিবন্ধন করা হয়েছে।