তরমুজের খোসার উপকারিতা

0
159
তরমুজের খোসা
ছবি: সংগৃহীত

বৈশাখ আসার আগেই গরমের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাজারে বাড়ছে তরমুজের দাম। গরমের সময়ে সবচেয়ে জনপ্রিয় এ মৌসুমি ফল। শুধু স্বাদের জন্যই নয়, নানা পুষ্টিগুণে ভরপুর তরমুজ শরীরকে হাইড্রেটেট রাখতে সহায়তা করে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, তরমুজের পানির পরিমাণ থাকে শতকরা ৯২ ভাগ। সেইসঙ্গে তরমুজে রয়েছে ভিটামিন এ, সি, পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়ামসহ অন্যান্য উপকারী উপাদান।

তবে তরমুজ কিনে আমাদের কম-বেশি সবারই একটু মন খারাপ হয়। কারণ এ ফলের মোট ওজনের মধ্যে অর্ধেকটাই থাকে খোসা। আমরা সাধারণত তরমুজের লাল লাল অংশটুকু খেয়ে খোসা ফেলে দেই। আপনি কী জানেন এ খোসা ফেলে দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে আপনি তরমুজের কত গুণাগুণ ফেলে দিচ্ছেন?

আজকের প্রতিবেদনের মাধ্যমে তরমুজের খোসার স্বাস্থ্যগত উপকারিতা সম্পর্কে জেনে নিন:

শক্তির ঘাটতি পূরণ করে:

বিশেষজ্ঞদের মতে, তরমুজের খোসায় রয়েছে সিট্রুলাইন (শরীরের জন্য একটি অপরিহার্য অ্যামিনো অ্যাসিড)। যা শরীরে শক্তির ঘাটতি পূরণে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। উপকারী এ সিট্রুলাইন রক্তনালী প্রসারণেও সাহায্য করে। গবেষণা বলছে, ওয়ার্ক আউটের সময় সিট্রুলাইনের পরিপূরকগুলো আমাদের পেশীতে অক্সিজেন সরবরাহ করে। এটি রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও সাহায্য করে।

ইরেক্টাল ডিসফাংশন দূর করে:

গবেষণা থেকে জানা যায়, তরমুজের খোসায় লিবিডো-বর্ধক (যৌন তাড়না, যৌন প্রবৃত্তি, যৌন প্রবণতা) শক্তি রয়েছে। ফলে তরমুজের খোসা ভায়াগ্রার সঙ্গে যুক্ত এল-সিট্রুলাইন সাপ্লিমেন্ট হিসেবে গ্রহণ করলে ইরেকশন উন্নত করতে সাহায্য করে।

​প্রেশার কমায়:

আপনি যদি প্রেশারের রোগী হন এবং প্রেশার নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত ওষুধ খান তাহলে তরমুজের খোসা খাওয়ার চেষ্টা করুন। কারণ তরমুজের খোসার নির্যাস রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম।

মেদ কমায়:

তরমুজের খোসা ফাইবার সমৃদ্ধ একটি খাবার। এটি কোষ্টকাঠিন্যের সমস্যা দূর করে। এ ছাড়াও রক্তে কোলেস্টেরল ও শর্করার মাত্রা কমাতে তরমুজের খোসা খুবই উপকারী।

আবার ফাইবারের ঘাটতি মেটাতেও সক্ষম তরমুজের খোসা। বিশেষজ্ঞদের মতে, তরমুজের খোসায় ক্যালরির পরিমাণ কম থাকায় তা ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

তবে, তরমুজের খোসা খাওয়ার ক্ষেত্রে একেবারে বাইরের সবুজ অংশ কখনোই খাবেন না। তাহলে পেটের সমস্যা হতে পারে। তরমুজের ভিতরের লাল অংশের পর যে সাদা অংশটুকু রয়েছে শুধু সেটি খাবেন।

যেভাবে খাবেন তরমুজের খোসা:

প্রতিবেদন পড়তে পড়তে হয়তো অনেকে ভাবতে শুরু করেছেন যে, তরমুজের খোসা খাওয়া যায় কীভাবে!
তরমুজের খোসা কাঁচা বা রান্না করে খেতে পারেন। আবার সালাদ বা জুস হিসেবেও এটি খাওয়া যায়। তরমুজের খোসা দিয়ে আচার কিংবা হালুয়া বানিয়েও খেতে পারেন। আবার লাউয়ের মতো ছোট ছোট টুকরো করে ডালের সঙ্গে রান্না করে বা তরকারি হিসেবে রান্না করেও খেতে পারেন।

তবে তরমুজের খোসা রান্না করে খাওয়ার চেয়ে কাঁচা খাওয়াই বেশি উপকারী বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।