গ্রিন টি পানের উপকারিতা

0
193
গ্রিন টি
ছবি: সংগৃহীত

 

ওজন কমানো থেকে শুরু করে নানারকম রোগের সমাধান রয়েছে গ্রিন টিতে। গরমে ত্বক যত্নে রাখতেও এই চা ব্যবহার করতে পারেন। এই চায়ে থাকা অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট উপাদান ত্বকে ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়। রোদে বেরোলেই অনেকের ত্বক লাল হয়ে যায়, জ্বালা করে। এ ক্ষেত্রেও গ্রিন টি দিয়েই করতে পারেন মুশকিল আসান।

স্ক্রাব হিসাবে

ত্বকের মৃতকোষ দূর করতেও গ্রিন টি-র ব্যবহার করতে পারেন। হাতে এক চা চামচ গ্রিন টি-র পাতা ও ফেসওয়াশ নিয়ে সারা মুখে হালকা হাতে সারা মুখে ঘষে নিন। মিনিট তিনেক করার পর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

টোনার হিসেবে

রাস্তার ধুলোবালিতে ত্বকের বারোটা বাজে। যাদের তৈলাক্ত ত্বক তাদের ত্বকের সমস্যা আরও বেশি। তাই বাড়ি ফিরেই টোনার ব্যবহার করা ছা়ড়া উপায় নেই। গ্রিন টি কিন্তু টোনার হিসাবে দারুণ কাজ করে। বেশি করে গ্রিন টি বানিয়ে কাচের শিশিতে ভরে রাখুন। রাস্তা থেকে ফিরে বা রাতে ঘুমনোর আগে এই টোনার ব্যবহার করুন।

ফেসপ্যাক হিসেবে

গ্রিন টি-র একটি ব্যাগ গরম পানিতে ডুবিয়ে ঘণ্টা খানেক রেখে দিন। পানি ঠান্ডা হয়ে গেলে টি ব্যাগটি কেটে চা পাতাগুলি বার করে একটি কাচের পাত্রে রাখুন। এক টেবিল চামচ বেকিং সোডা, এক চা চামচ মধু, কয়েক ফোঁটা ল্যাভেন্ডার তেল আর অ্যালোভেরা পানিতে মিশিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করুন। গ্রিন টি ফেসপ্যাকটি মুখে লাগানোর আগে অবশ্যই মুখ ভাল করে পরিষ্কার করে নিন। ফেসপ্যাকটি লাগিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট রাখুন। এ বার গরম পানিতে তোয়ালে ভিজিয়ে হালকা হাতে মুখ মুছে নিন। এই ফেসপ্যাক মুখে লাগানোর আগে হাতে পরীক্ষা করে নিতে ভুলবেন না যেন।

শরীরকে সতেজ রাখে

গ্রিন টিতে ফ্লেভোনয়েড নামের একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান থাকে। আর এটি হচ্ছে— শরীরকে সতেজ রাখে এমন একটি শক্তিশালী উপাদান। তাই গ্রিন টি খেলে শরীর থাকে সতেজ।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে

শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে গ্রিন টি। এতে কেটেচিন নামের একটি উপাদান থাকে এবং এটি ভিটামিন ই ও সির থেকেও বেশি শক্তিশালী। তাই গ্রিন টি খেলে তা শরীরে প্রবেশ করে অনেক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করার পাশপাশি বিভিন্ন উপকার করে।

অ্যালার্জিসহ নানা রোগে উপকারী

গ্রিন টি অ্যালার্জির সমস্যা সমাধানে অনেক উপকারী। এ ছাড়া বিশেষজ্ঞরা বলেন, হার্টঅ্যাটাকের সম্ভাবনা কমানো, ক্যানসার প্রতিরোধ, স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণেও সহায়তা করে গ্রিন টি।

ডিপ্রেশন কমায়

গ্রিন টি অবসাদ বা ডিপ্রেশন কমাতেও অনেক কার্যকরী। এতে থিয়ানিন নামের অ্যামাইনো অ্যাসিড থাকার কারণে এটি ডিপ্রেশন কমাতে সাহায্য করে। তাই ডিপ্রেশন কমাতে নিয়মিত গ্রিন টি খেতে পারেন।

ওজন কমায়

গ্রিন টির সবচেয়ে পরিচিত গুণাবলি হচ্ছে— এটি ওজন কমাতে কার্যকরী। মূলত এটি হজম প্রক্রিয়াকে বৃদ্ধি করে শরীরের অতিরিক্ত মেদ কমাতে সাহায্য করে। এ ছাড়া এতে থাকা কেটাচিনও পেটের মেদ কমাতে সাহায্য করে।

দাঁত ভালো রাখে

গ্রিন টিতে থাকা ক্যাটেকাইন নামের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট দাঁত ভালো রাখতে অনেক উপকারী। এ উপাদানটি মুখের ভেতরের ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিকে রোধ করে। ফলে এটি গলার বিভিন্ন সংক্রমণ রোধ করাসহ দাঁত ভালো রাখতে সাহায্য করে।