আমাদের দেশের বেশিরভাগ মানুষই খুব বেশি লম্বা হয় না। চিকিৎসকরা বলছেন, শরীরে এক বিশেষ উপাদানের অভাবের কারণেই এ সমস্যায় আটকায় মানুষ।
আপনি কি জানেন কী সেই কারণ?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শরীরে জিংকের অভাব হলে এমন সমস্যার সম্মুখীন হন মানুষ। আমাদের দেশে এ সমস্যা প্রকট। গতবছর ঠিক এ সময়টাতেই প্রকাশিত হয় জাতীয় মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট সার্ভের রিপোর্ট। আর ওই রিপোর্টেই ধরা পড়ে দেশে শতকরা ৩০ ভাগ মানুষের মধ্যে রয়েছে জিংকের অভাব।
শরীরে জিংক অভাবের লক্ষণ
শরীরে জিংকের অভাব দেখা দিলে বেশকিছু লক্ষণ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এগুলো হলো-
১। প্রায়ই ডায়রিয়া হওয়া।
২। ক্ষুধামন্দা ও খাবার খাওয়া অরুচি।
৩। মানসিক অবসাদ ও হতাশা।
৪। ক্ষত দ্রুত না সারা
৫। চুল ঝরে পড়ার পরিমাণ বেড়ে যাওয়া।
৬। স্বাদ ও ঘ্রাণশক্তি কমে আসা ইত্যাদি।
জিংক ঘাটতি মেটাতে কী খাবেন?
গবেষণা বলছে, ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী ১০০ জন শিশুর মধ্যে ৩৩ জন জিংকের অভাবে ভুগছে। সেই সঙ্গে ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী ৪৫ শতাংশ ভুগছেন জিংকজনিত অপুষ্টিতে।
এ সমস্যা সমাধানে গবেষকরা বলছেন, ভাতের মাধ্যমে মানবদেহে জিংকের ঘাটতি প্রায় ৭০ শতাংশ মেটানো সম্ভব। তবে সম্পূর্ণ জিংকের ঘাটতি মেটাতে ভাতের পাশাপাশি খেতে হবে সামুদ্রিক মাছ ও অন্যান্য খাবার যেমন কাঁকড়া, ঝিনুক, চিংড়ি, মাংস, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার, ডিম, বাদাম, শিম, মাশরুম ইত্যাদি।
জিংক ট্যাবলেট
এসব খাবার খেতে বেশি পয়সা খরচ হবে মনে হলে খাবারের ঝামেলা এড়িয়ে শরীরে জিংক ঘাটতির মেটাতে চাইলে বেছে নিতে পারেন জিংক ট্যাবলেটকে।
জিংক ট্যাবলেট খাওয়ার উপকারিতা
নিয়মিত দুটি জিংক ট্যাবলেট খেলে শুধু উচ্চতাই আপনার বাড়বে না। এর সঙ্গে আপনি পাবেন অসংখ্য উপকারিতা। আসুন, একে একে তা জেনে নিই-
১। ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ে।
২। চুল পড়া কমায়।
৩। ঠান্ডাজনিত সমস্যা থেকে আপনাকে দূরে রাখে।
৪। জিহ্বায় ঘা দূর করে।
৫। ছত্রাকের আক্রমণ থেকে দূরে রাখে।
৬। বিষন্নতা, অমনোযোগিতা, মানসিক অবসাদ থেকে দূরে রাখে।
৭। ব্রণ ও ডায়রিয়া প্রতিরোধ করে।
৮। ক্ষত দ্রুত কমে।
৯। একজিমার সমস্যায় উপকার পাওয়া যায়।
১০। প্রজনন ক্ষমতা বাড়ায়।
১১। অরুচি ও ক্ষুধা মন্দা দূর করে।
জিংক ট্যাবলেট খাওয়ার নিয়ম
প্রাপ্তবয়স্ক নারীর ক্ষেত্রে ৮ গ্রাম এবং পুরুষের ক্ষেত্রে ১১ গ্রাম জিংকের প্রয়োজন। চিকিৎসকরা বলছেন, জিংক ২০ ট্যাবলেট প্রতিদিন সকালে ও রাতে দুটি করে খেতে হবে।
এক্ষেত্রে জিংক ট্যাবলেট খাবার খাওয়ার আগে খেতে চাইলে ১ ঘন্টা আগে খেতে হবে। আর যদি খাবার খাওয়ার পরে খেতে চান তবে খাবার খাওয়ার ২ ঘন্টা পরে জিংক ট্যাবলেট খেতে হবে।






