ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ওষুধের দামে বিস্তর ফারাক!

0
200

বাস্তবে যখন পাশের দেশ ভারতের থেকে কয়েক গুণ বেশি দাম দিয়ে বাংলাদেশিদের কিনতে হয় ওষুধ, সেখানে উৎপাদনকারীরা বলছেন আন্তর্জাতিক বাজারের চেয়ে ৩০ ভাগ কম দেশের বাজারদর। যদিও দোকানিরা বলছেন, রুটিন করেই প্রতি মাসে বাড়ানো হয় ওষুধের দাম। আর তাতেই নাস্তানাবুদ সাধারণ মানুষ। যদিও স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলছেন, এখনই বাড়বে না দাম।

রাজধানীর শাহবাগ এলাকার ওষুধের বাজারে এক দোকান থেকে অন্য দোকানে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এক যুবক। দীর্ঘদিন ধরে জটিল এক রোগে ভুগছেন তিনি। প্রয়োজনীয় ওষুধটি কদিন আগে ৪০ টাকা দিয়ে কিনেলও এখন তা ৪৮ টাকা।

ওষুধের দোকানে এখন নিয়মিত চলে দর কষাকষি। বিনা নোটিশেই দিন দিন বাড়ছে দাম, বাড়ছে ক্রেতাদের দীর্ঘশ্বাস।

দু-চার মাস পরপর ওষুধের দাম বাড়ানো এখন যেন নিয়মিত বিষয়। ক্রেতারা বলছেন, আগে যে ওষুধের দাম ২০ টাকা পাতা ছিল, তা এখন ৪৫-৫০ টাকা। এমন অবস্থায় নিত্যপ্রয়োজনীয় চাহিদা মেটাতে গিয়ে হিমশিম খাওয়া মানুষ খরচের খাতা থেকে চিকিৎসা-ওষুধ বাদ দিচ্ছেন।

খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগ, কোনো নোটিশ ছাড়াই ওষুধের দাম বাড়ানো হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা বৃদ্ধি পায় প্রতিমাসে।

বাজারের চিত্র যেখানে এমন, তখন বাস্তব চিত্র বলছে, পাশের দেশ ভারতের থেকে সাধারণ ওষুধের দাম কয়েক গুণ বেশি বাংলাদেশে। যদিও উৎপাদনকারীরা বলছেন সম্পূর্ণ উল্টো কথা। তারা বলছেন, ওষুধের কাঁচামাল, প্যাকেজ, কর্মীদের বেতন–সবকিছু গত চার বছরে বাড়ানো হয়েছে। তারপরও আমরা আগের ৮৬ টাকাতেই বিক্রি করছি আন্তর্জাতিক বাজার দরে, যা আগের থেকে ৩০ শতাংশ কম।

দুদিন আগেও ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণে অনেকটা কঠোর বার্তা দিলেও বৃহস্পতিবার কিছুটা নমনীয় দেখা গেল স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে। আশ্বাস দিলেন দাম নিয়ন্ত্রণের।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন বলেছেন, আমি চাই স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে সুন্দর করতে। তাই ওষুধের দাম যদি সহজলভ্য করা যায়, তাহলে আমরা সাধারণ রোগীদের জন্য ভালো কিছু করতে পারব। তবে এটির দাম কমানো বা বাড়ানো নিয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আলাপ-আলোচনা করে পরে এ বিষয়ে জানানো হবে।

তথ্য বলছে, চিকিৎসা ক্ষেত্রের মোট ব্যয়ের ৬০ ভাগই ব্যয় হয় ওষুধে।