যুক্তরাষ্ট্রে ডেঙ্গুর টিকা ‘TV005’র দ্বিতীয় ধাপের সফল ট্রায়ালের পরে এবার তৃতীয় ধাপের ট্রায়ালের অপেক্ষায় বাংলাদেশ। এখন পর্যন্ত দিনক্ষণ ঠিক করতে না পারলেও এরই মধ্যে দেশের ওষুধ প্রস্তুতকারী দুটি কোম্পানি টিকা উৎপাদনের লাইসেন্স নেয়ার চেষ্টা করছে। সবকিছু ঠিকঠাক এগুলে এ টিকা বাজারে আসতে সময় লাগবে আরো অন্তত দুই থেকে তিন বছর।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্মট বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে টিকার ট্রায়াল নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি) একথা জানিয়েছে।
করোনার পর দেশের স্বাস্থ্যখাতে সব থেকে বড় আপদের নাম ডেঙ্গু। গত ২৩ বছরের রেকর্ড ভেঙে চলতি বছর এখন পর্যন্ত রোগটিতে ভুগেছেন প্রায় পৌনে তিন লাখ মানুষ। মৃত্যুর সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১৩শ।
ডেঙ্গুর এমন ভয়াবহতার মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ডেঙ্গু টিকা ‘TV005’-এর সফল ট্রায়ালের খবর। আইসিডিডিআর’বি ও যুক্তরাষ্ট্রের ভার্মট বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ এ গবেষণার পূর্ণাঙ্গ তথ্য দিতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে আইসিডিডিআর’বি। উপস্থিত ছিলেন ভার্মট বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন গবেষকও।
তারা জানান, দ্বিতীয় ধাপের ট্রায়ালে অংশ নেয়া ১৯২ জনের মধ্যে ১৪২ জনকে টিকা দেয়া হয়েছে। বড় কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই এটি সেরোটাইপ ডেন টু-এর বিরুদ্ধে ৯৯ শতাংশ, ডেন থ্রির বিরুদ্ধে ৯৬ শতাংশ, ডেন ফোরের বিরুদ্ধে ৮৭ শতাংশ এবং ডেন ওয়ানের বিরুদ্ধে ৮৩ শতাংশ কার্যকর।
আইসিডিডিআর’বি বড় আকারে বাংলাদেশেই পরবর্তী ধাপের ট্রায়াল চালাতে চায়। তবে এজন্য আর্থিক ফান্ড যেমন প্রয়োজন, তেমনি এগিয়ে আসতে হবে ওষুধ প্রস্তুতকারী কোম্পানিগুলোকেও। কেননা পরবর্তী ধাপের ট্রায়ালের জন্য প্রয়োজন পড়বে অনেক বেশি টিকার।
বাংলাদেশ থেকে এরই মধ্যে দুটি ওষুধ প্রস্তুতকারী কোম্পানি টিকা উৎপাদনের লাইসেন্সের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে। সব ধাপের ট্রায়াল শেষে বাংলাদেশেই উৎপাদন হোক — ডেঙ্গুর টিকা এমনটাই প্রত্যাশা আইসিডিডিআর,বির।
টিকা বাজারে আসার আগ পর্যন্ত এমনকি টিকা সাধারণের নাগালে এলেও মশক নিধনের বিকল্প নেই বলে মত গবেষকদের।






