ডেঙ্গু নিয়ে ভয়াবহ তথ্য দিলেন জরিপকারীরা

0
465

মাঠ পর্যায়ের জরিপে আশঙ্কাজনকহারে ডেঙ্গুর লার্ভা বাড়ার তথ্য উঠে এসেছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে চলমান কার্যক্রমকে অপর্যাপ্ত বলছেন জরিপ সদস্যরা। আর কীটতত্ত্ববিদদের শঙ্কা, এভাবে চলতে থাকলে সেপ্টেম্বর, নভেম্বরে আরও ভয়ঙ্কর হতে পারে ডেঙ্গু।

সদ্য শেষ আগস্টেই অতীতের সব রেকর্ড ছাপিয়ে ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠেছে ডেঙ্গু পরিস্থিতি। ওই মাসেই মারা যান প্রায় সাড়ে ৩০০ জন, আর আক্রান্ত হন প্রায় পৌনে এক লাখ।

ডেঙ্গুর এমন প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে আগে থেকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রস্তুতিই ছিল না জানিয়ে ডেঙ্গুর ঘনত্ব নির্ণয় কাজে অংশ নেয়া কর্মীরা বলছেন, আগের চেয়ে আশঙ্কাজনকহারে মিলছে ডেঙ্গুর লার্ভা।

ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাবের এই ভয়ঙ্কর সময়েও সংশ্লিষ্টরা কার্যকর উদ্যোগ নিতে ব্যর্থ বলে মত জরিপকারীদের। তারা বলছেন, চলমান কর্মসূচি দিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের কীটতত্ত্ব নজরদারি কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম বলেন, আগের চেয়ে তুলনামূলক বেশি পরিমাণ ডেঙ্গুর লার্ভা পাচ্ছি। লার্ভার যে ৪টা স্টেজ, সবগুলোই পাচ্ছি।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম বলেন, ডেঙ্গুর লার্ভার উপস্থিতি যথেষ্ট পরিমাণে আছে। আমরা মনে করি যে এই বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু পরিস্থিতি কমিয়ে আনার জন্য যে উদ্যোগগুলো আছে, সেগুলোকে আরও কার্যকর করা উচিত।

ডেঙ্গু জরিপ দলের কীটতত্ত্ববিদ ও সমন্বয়ক খলিলুর রহমান বলেন, এখই হাই ট্রান্সমিশন সিজন চলছে। এ সময় তারা ফগিং করছে। কিন্তু ফগিংটা আমার কাছে উপযুক্ত উপায়ে মনে হচ্ছে না। কারণ যারা স্প্রে করে, তারা মূলত কিউলেক্স মশা নিয়ন্ত্রণের জন্য কাজ করে। তাই ওই অভ্যাসটা তারা এখনো পরিবর্তন করতে পারেনি।

এখনই সমন্বিতভবে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া না হলে সেপ্টেম্বর, অক্টোবরে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের হার আরও বাড়ার শঙ্কা কীটতত্ত্ববিদদের।

এ বিষয়ে কীটতত্ত্ববিদ ড. কবীরুল বাশার বলেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি খুব নিয়ন্ত্রণে আসবে না। সেপ্টেম্বর মাসজুড়েই ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব থাকবে। এখন গ্রামেও ডেঙ্গু হচ্ছে। ডেঙ্গু পরিস্থিতি এখন যে পর্যায়ে আছে, সেটা আশঙ্কাজনক।

শুক্রবারের (০১ সেপ্টেম্বর) জরিপ কাজেও স্বাস্থ্য অধিদফতরের সঙ্গে সিটি করপোরেশনের কোনো কর্মকর্তাকে দেখা যায়নি।