গরমের সময় চোখ উঠলে কী করবেন?

0
148
চোখ ওঠা
ছবি: সংগৃহীত

মানুষের সবচেয়ে সংবেদনশীল অঙ্গের মধ্যে প্রথমেই যে শব্দটি মাথায় আসে তা হলো চোখ। এই চোখ যে শুধু মনের আয়না তা কিন্তু নয়, এটি ভাষা হিসেবে কাজ করে অনেক রোগেরও। আর এসব রোগের মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি রোগ হলো চোখ ওঠা।

চোখের সাদা অংশ লাল বর্ণ ধারণ, চোখ দিয়ে পানি পড়া বা ব্যথা অনুভব করা সাধারণত চোখ ওঠার লক্ষণ বলা হয়ে থাকে। চিকিৎসাশাস্ত্রে, চোখের এই সমস্যাটিকে বলা হয়ে থাকে কনজাংটিভাইটিস। যে কোনো সময় এই রোগটির আক্রমণে পড়তে পারেন আপনি। তবে এই রোগটির প্রাদুর্ভাব বেশি বেড়ে যায় গরম আর বর্ষার এ সময়টাতে।

রোগটি ছোঁয়াচে, সেই সঙ্গে সংক্রামকও। আর এ কারণেই একজন থেকে অন্যজনে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এই রোগটি। তবে যে কারণেই চোখ ওঠা রোগে আক্রান্ত হন না কেন রোগটি নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই। কারণ চোখ ওঠা সমস্যাটি ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যেই ঠিক হয়ে যাবে। তবে কারো কারো ক্ষেত্রে তা ১৫ দিনের মতো সময় লাগতে পারে।

তবে চোখ আক্রান্তের এ দিনগুলোতে আপনাকে অব্যশই কিছু বিষয় মেনে চলতে হবে বলে মনে করেন প্রবাসী জনপ্রিয় ডাক্তার তাসনিম জারা। যে বিষয়গুলো মেনে চলবেন সেগুলো হলো-

১. সাবানপানি দিয়ে কিছুক্ষণ পরপরই হাত পরিষ্কার করতে হবে।

২. কোনো কারণে চোখ ভেজা থাকলে বা ময়লা বের হয়ে চোখের পাতা আটকে গেলে চোখ টিস্যু পেপার দিয়ে মুছে নিতে হবে। ব্যবহারের পর টিস্যু পেপারটি অবশ্যই ময়লার ঝুড়িতে ফেলে দিতে হবে। নরম পরিষ্কার কাপড় হালকা গরম পানিতে ভিজিয়ে ঝেরে নেয়ার পর তা দিয়েও আলতোভাবে আক্রান্ত চোখ পরিষ্কার করে নিতে পারেন। না হলে ব্যবহার করা টিস্যু পেপার থেকে সংক্রমণ পরিবারের অন্য সদস্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়বে।

৩. আক্রান্ত চোখ থেকে যেন অন্য চোখ আক্রান্ত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন। এ জন্য দুই চোখের জন্য আলাদা আলাদা দুটি তুলা বা টিস্যু নিতে পারেন। চোখ উঠলে চশমার ব্যবহার করতে হবে। এতে চোখে স্পর্শ করা কমবে। পাশাপাশি ধুলাবালি, ধোঁয়া, সূর্যের রশ্মি থেকে চোখ রক্ষা পাবে। আলোয় অস্বস্তিও কমবে।

৪. চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টিবায়োটিক ড্রপ ব্যবহার করতে পারেন। তবে কোনোভাবেই নিজে নিজে কোনো ড্রপ ফার্মেসি থেকে কিনে এনে ব্যবহার করবেন না। এতে বেশি পাওয়ারফুল ড্রপ ব্যবহারে চোখের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হতে পারে।

৫. চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ড্রপ ব্যবহার করলে তার নির্দেশনা মতো নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ড্রপ ব্যবহার করতে হবে। চোখ ওঠা রোগ সেরে গেলেও নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত এটি ব্যবহার করুন।

৬. চোখে ড্রপ দেয়ার আগে অবশ্যই হাত ভালো করে ধুয়ে এবং মুছে নিতে হবে। এরপর নাকের ওপরের অংশে একপাশ চাপ দিয়ে চোখে ড্রপ দিতে হবে। যেমন আপনি ডান চোখে ড্রপ দিলে ডান পাশের নাক একটু চেপে রেখে চোখে ড্রপ দিন। এতে করে ড্রপের ওষুধ চোখের ভেতরে প্রবেশ করে তা যেন গলায় চলে আসবে না।

৭. চোখ ওঠা রোগে আক্রান্ত হলে নিজের ব্যবহার করা প্রসাধনসামগ্রী ও ব্যক্তিগত কাপড়চোপড় অন্য কাউকে ব্যবহার করতে দেয়া যাবে না। একইভাবে অন্যের ব্যবহৃত প্রসাধনসামগ্রী ও ব্যক্তিগত জিনিসপত্র রোগীর ব্যবহার করা চলবে না।

৮. চোখ ঘষে চুলকানো যাবে না। অন্য কারও আই ড্রপও এ সময় ব্যবহার করা যাবে না।

৯. তবে সবচেয়ে ভালো হয়, আই ড্রপ ব্যবহার না করে ডায়েটে ভিটামিন সি এর পাশাপাশি সুষম খাবার প্রাধান্য দেয়া। চোখের পরিচর্যা ও পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি এ সময় পর্যাপ্ত বিশ্রামই চোখের সুরক্ষা তৈরি করবে শতভাগ।

১০. হবু মায়েরা এ রোগে আক্রান্ত হলে অবশ্যই ড্রপ ব্যবহারের আগে কোনো গাইনোলজিস্টের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে।

চোখ ওঠা রোগীর দিকে তাকালেই আপনার চোখ উঠবে, এমন ধারণা কিন্তু একদমই ভুল। আবার অনেকে মনে করেন, চোখ ওঠা রোগীর হাঁচি, কাশির মাধ্যমে আপনি এ রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। এটিও সঠিক নয়। এই রোগ মূলত আক্রান্ত রোগীর চোখের পানি, ময়লা, তার ব্যবহৃত টিস্যু এবং হাতের মাধ্যমে ছড়ায়। তাই রোগীর এসব বিষয় থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে পারলেই আপনি রোগটি থেকে শতভাগ সুরক্ষিত থাকতে পারবেন।