৩০ এর পরও চেহারায় থাকুক যৌবন

0
300

একটু বয়স বাড়লেই বয়সের ছাপ প্রত্যেকের চেহারাতেই পড়ে। বয়স যত বাড়তে থাকে, চেহারায় তার প্রভাব এড়ানো যায় না। তবে কারও কারও চেহারায় বয়সের ছাপ তাড়াতাড়ি পড়ে, আবার কেউ চল্লিশেও বিশ বছর বয়সের উজ্জ্বলতা ধরে রাখেন।

তবে নারীদের ৩০ এর কোটায় পা দেওয়া মানে ত্বকে নানা রকম পরিবর্তন দেখা দেয়া। ফাইন লাইন, রিঙ্কেল, পাফিনেস, ডার্ক সার্কেল ইত্যাদি তখন হয়ে যায় নিত্যসঙ্গী।

অফিস, ঘরের কাজ সামাল দিয়ে অনেক সময় নিজের দিকেই খেয়াল রাখা সম্ভব হয় না। আর বাজার থেকে কেনা প্রসাধনী কতটুকুই বা কাজ করে। তাই ৩০-এর পর ত্বকের যত্ন নিতে কিছু নিয়ম ও ঘরোয়া পদ্ধতি মেনে চলা উচিত। চলুন জেনে নেই কী করবেন, কী করবেন না।

৩০ এ যৌবন ধরে রাখতে কী করবেন?

১. ডাবল ক্লিনজিং জরুরি
ডাবল ক্লিনজিংয়ের অর্থ দুবার মুখ পরিষ্কার করা। রেগুলার ফেসওয়াশ বা সোপ ব্যবহার করলেই হবে। খেয়াল রাখবেন, মুখের এবং গলার প্রতিটি অংশই যেন ভালোমতো পরিষ্কার হয়। ক্লিনজিংয়ের পরে মিনিট দুয়েক অপেক্ষা করতে ভুলবেন না।

এ ছাড়া মেকআপ করা থাকলে প্রথমে অয়েল বেসড ক্লিনজারের সাহায্যে মুখ পরিষ্কার করতে হবে। তারপর ভালো করে মুখ ধুয়ে নিতে হবে।

২. হাইড্রেটিং টোনার ব্যবহার করা আবশ্যক
শুষ্ক ত্বকে বার্ধক্যের ছাপ পড়ে তাড়াতাড়ি। ত্বকের টানটান ভাব হারিয়ে যায়। উজ্জ্বলতাতেও ঘাটতি পড়ে। তাই উজ্জ্বল ত্বক পেতে আর্দ্রতার মাত্রাও ঠিক রাখা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে নিয়মিত হাইড্রেটিং টোনার ব্যবহার করতে হবে। একটি কটন প্যাডে পরিমাণ মতো টোনার নিয়ে মুখে লাগিয়ে নিন। ব্য়াস, তাহলেই আর কোনও চিন্তা থাকবে না।

৩. রেটিনল সিরাম
৩০ বছরে পা দিয়েই আপনার স্কিনকেয়ার রুটিনে যোগ করুন রেটিনল। এই উপাদান আপনার ত্বককে এক্সফোলিয়েট করে। ত্বকের ভেতরে কোলাজেনের উৎপাদনও বাড়াবে। টোনার লাগানোর পরে আপনি রেটিনল সিরাম ব্যবহার করতে পারেন। এই সিরাম নিয়মিত ব্যবহার করতে হবে, তবেই কিন্তু উপকার মিলবে।

৪. আই ক্রিমও জরুরি
মুখের অন্যান্য অংশের মতোই চোখের চারপাশের ত্বকেরও বিশেষ যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। নাহলেই চওড়া হবে ডার্ক সার্কেল। বলিরেখাও প্রকট হতে শুরু করবে।

প্রতি রাতে শুতে যাওয়ার আগে আই ক্রিম লাগান। ত্বক ভালো থাকবে। রেটিনল, নিয়াসিনামাইড সমৃদ্ধ আই ক্রিম বেছে নিতে পারেন। এই উপাদানগুলি অ্যান্টিএজিং এজেন্ট হিসেবে কাজ করে।

৫. নাইট ক্রিমের ব্যবহার
রাতে শুতে যাওয়ার আগে অবশ্যই নাইট ক্রিম লাগানোটা জরুরি। অ্যান্টি এজিং উপাদান সমৃদ্ধ ময়শ্চারাইজিং নাইট ক্রিম বেছে নিন। তৈলাক্ত ত্বকে জেল বেসড বা ওয়াটার বেসড নাইট ক্রিম লাগান। নাইট ক্রিমে যেনো ভিটামিন এ এবং সি থাকে, সেদিকে নজর রাখবেন।

৬. সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন
স্কিনকেয়ার রুটিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হলো সানস্ক্রিন। ক্ষতিকর সূর্যালোক ত্বকের বারোটা বাজিয়ে দেয়। তাই দিনের বেলা অবশ্যই সানস্ক্রিন লাগাবেন।

৭. স্ক্রাবিং করুন
সপ্তাহে একবার মুখে স্ক্রাবিং করে নিন। এতে ত্বকে জমে থাকা মরা কোষ দূর হয়ে যায়। ফলে ক্রিম বা টোনার যাই ব্যবহার করুন না কেন, তা ত্বকে সঠিকভাবে প্রবেশ করতে পারে।

৮. স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস
আপনি যত যাই ব্যবহার করেন না কেনো যদি আপনার স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস না থাকে তাহলে ত্বক অতি দ্রুতই বুড়িয়ে যাবে। তাই ৩০ এর পর ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে রোজ। দুধ ও দুধের তৈরি খাবার, নরম কাঁটাসহ মাছ ও প্রচুর রঙিন শাকসবজি খান। ফলমূল, নানা ধরনের বাদাম ও বিভিন্ন বীজ খান। তেল-চর্বি আর শর্করাজাতীয় খাবার কমিয়ে দিন। অতিরিক্ত লবণ, অতিরিক্ত চিনি বা মিষ্টিজাতীয় খাবার খাবেন না। কোমল পানীয় এড়িয়ে চলুন।