২০৫০ সালের মধ্যে ৮০ শতাংশ স্ট্রোক বাংলাদেশে হবে!

0
420

অতিরিক্ত মোবাইল আসক্তি, ফাস্টফুড, ধূমপান ও অনিয়ন্ত্রিত লাইফস্টাইলের কারণে ২০৫০ সালের মধ্যে ৮০ শতাংশ স্ট্রোক আমাদের মতো দেশে হবে। এমন তথ্য জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরো সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো.শফিকুল ইসলাম। স্ট্রোক প্রতিরোধে সবার আগে আমাদের লাইফস্টইলে পরিবর্তন নিয়ে আসতে হবে। সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে এ বিষয়ে সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে বলেও জানান তিনি।

শুক্রবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর উত্তরা ৩ নাম্বার সেক্টরের হোয়াইট হল মিলনায়তনে বিশ্ব স্ট্রোক দিবস-২০২৩ উপলক্ষে আয়োজিত সচেতনতা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

ন্যাশনাল স্ট্রোক ট্রাস্ট অব বাংলাদেশের (এনএসটিবি) উদ্যোগে ও হাই কেয়ার নিউরো স্পেশালাইজড হাসপাতালের সহযোগিতায় বিশ্ব স্ট্রোক দিবস ২০২৩ উপলক্ষে সচেতনতা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ব স্ট্রোক দিবস প্রতিবছর ২৯ অক্টোবর উদযাপিত হয়ে আসছে। রোববার (২৯ অক্টোবর) বিশ্ব স্ট্রোক দিবস পালন করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শাহনেওয়াজ দিলরুবা খান। এছাড়া প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) নিউরো সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো.শফিকুল ইসলাম।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউরো মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মনিরুজ্জামান ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে সচেতনতা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিএমপি উত্তরা বিভাগের উপ পুলিশ কমিশনার মো. মোর্শেল আলম। এছাড়া স্বাগত বক্তব্য রাখেন হাই কেয়ার জেনারেল অ্যান্ড স্পেশালাইজড হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. এন এ খান ছাড়া শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন এনএসটিবির ট্রাস্টি আকাশ আহমেদ।

সচেতনতা সভায় প্রধান আলোচক অধ্যাপক ডা. মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ২০৫০ সালের মধ্যে ৮০ শতাংশ স্ট্রোক আমাদের মতো দেশে হবে। এর প্রধান কারণ অতিরিক্ত মোবাইল আসক্তি, ফাস্টফুড, ধূমপান ও অনিয়ন্ত্রিত লাইফস্টাইলের কারণে। স্ট্রোক প্রতিরোধে সবার আগে আমাদের লাইফস্টইলে পরিবর্তন নিয়ে আসতে হবে, ডায়েট মেনে চলতে হবে ও নিয়মিত শরীরচর্চা করতে হবে।

বিশ্বে প্রতি ৬ জনে একজন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয় উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, দুশ্চিন্তামুক্ত জীবনযাপন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা দুশ্চিন্তা আমাদের জীবনীশক্তিকে মেরে ফেলে ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। স্ট্রোক প্রতিরোধ প্রয়োজন সমন্বিত সচেতনা। সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে এ সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে।

অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে আলোচনা সভা শেষে স্ট্রোক বিষয়ে সচেতনতামূলক গান পরিবেশন করেন বেতার ও টেলিভিশন জারি সম্রাট গীতিকার আবুল হাসেম বয়াতি।

উল্লেখ্য, ন্যাশনাল স্ট্রোক ট্রাস্ট অব বাংলাদেশ প্রতি মাসের তৃতীয় বৃহস্পতিবার স্ট্রোক প্রতিরোধে ফ্রি ক্যাম্প পরিচালনা করে আসছে। এদিন আগত রোগীদের ফ্রি চেকআপ ও কনসালটেন্সি করা হয় এবং সকল টেস্ট ও চিকিৎসার উপর ৩৫-৪০% ছাড় দেয়া হয়। এছাড়াও হাই কেয়ার নিউরো স্পেশালাইজড হাসপাতালের পক্ষ থেকে সকল খরচের উপর ২০% ছাড় দেয়া হয়। একইসঙ্গে ডাক্তারের সকল ফি এর উপর ৪০-৫০% ছাড় দেয়া হয়।

প্রসঙ্গত: বিশ্ব স্ট্রোক দিবস প্রতিবছর ২৯ অক্টোবর উদযাপিত হয়। মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ কোনো কারণে বিঘ্নিত হলে স্ট্রোক সংঘটিত হয়। বিশেষ করে রক্তনালী বন্ধ হয়ে কিংবা রক্তনালী ছিঁড়ে মস্তিষ্কে এই রক্ত সরবরাহ বিঘ্নিত হয়। রক্তে থাকে অক্সিজেন আর পুষ্টিগুণ। ফলে অক্সিজেনের অভাবে মস্তিষ্কের টিস্যুগুলো মারা যায়। স্ট্রোকের সবচেয়ে বড় কারণ হলো উচ্চরক্তচাপ। সারাবিশ্বে মৃত্যুর তৃতীয় প্রধান কারণ স্ট্রোক।