হাজারীবাগের ট্যানারির দূষিত এলাকায় বনায়ন বদলে দেবে পরিবেশ

0
289

হাজারীবাগের ট্যানারি বর্জ্যে দূষিত ২৫ একর জমিতে যদি পরিকল্পিতভাবে বনায়ন করা হয় তবে পুরান ঢাকার পরিবেশ ব্যাপকভাবে বদলে যাবে। যার প্রভাব পড়বে পুরো ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার পরিবেশ, প্রতিবেশ এবং শিশু কিশোরসহ সর্বস্তরের নাগরিকদের জীবনযাত্রার ওপর।

মঙ্গলবার (৪ জুন) রাজধানীর প্রেস ক্লাবে ‘গ্রোয়িং ডিজাজস্টার উইথ এক্সট্রিম হিট: রেসপন্স অ্যান্ড রেসিলিয়েন্স’ শীর্ষক সেমিনারে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন স্থপতি রফিক আজম।

যৌথভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বেসরকারি সংগঠন চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভ ও উই মিন গ্রিন ফাউন্ডেশন। সেমিনারের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন খান।

রফিক আজম বলেন, হাজারীবাগের ট্যানারি এলাকায় একসঙ্গে ২৫ একর জমি রয়েছে। ট্যানারি শিল্পের দূষণের কারণে সেখানে বসবাসের জন্য স্থাপনা নির্মাণেও আইনি বাধা রয়েছে। ঢাকা শহর বিশেষ করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) এলাকায় আর কোথাও একসঙ্গে এত বেশি পরিত্যক্ত জমি পাওয়া যাবে না। যেহেতু দূষণের কারণে হাজারীবাগের ওই জমিতে বসবাসের জন্য ব্যবহার করা যাবে না, সেক্ষেত্রে সেখানে গাছ লাগানো যেতে পারে। প্রাকৃতিক বন তৈরি করা যেতে পারে। এ প্রসঙ্গে ইউক্রেনের চেরনোবিল পরমাণু দুর্ঘটনার কারণে পরিত্যক্ত নগরীতে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা সবুজায়নের উদাহরণ দেন তিনি।

পরিবেশগত ঝুঁকির কারণে হাজারীবাগের ট্যানারির ওই এলাকায় বসবাস নিষিদ্ধ। ট্যানারি বর্জ্যে সেখানকার মাটি ব্যাপকভাবে দূষিত থাকায় সেখানে বসবাস করলে ক্যানসারের মারাত্মক ঝুঁকি রয়েছে উল্লেখ করে রফিক আজম বলেন, এই ২৫ একর জমিতে বনায়নের ব্যাপারে কোনো ধরনের রাজনৈতিক কিংবা আইনি বাধা নেই।

এ ব্যাপারে ইতোমধ্যেই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কর্তৃপক্ষ চাইলেই এটা বাস্তবায়ন সম্ভব। পাশাপাশি বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে প্রাকৃতিকভাবেই ওই এলাকা কয়েক বছরের মধ্যে দূষণমুক্ত হবে।

সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন উই মিন গ্রিন ফাউন্ডেশনের জেনারেল সেক্রেটারি ফারহানা রহমান, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী, সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম মন্টু, বিজ্ঞানী ড. রাশেদ চৌধুরী, আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ মোস্তফা কামাল পলাশ প্রমুখ।