সিআরপিতে বিশ্ব অকুপেশনাল থেরাপি দিবস পালিত

0
126

‘স্ট্রোক চিকিৎসায় অকুপেশনাল থেরাপি’ প্রতিপাদ্য নিয়ে সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও উদযাপিত হচ্ছে ১৪তম বিশ্ব অকুপেশনাল থেরাপি দিবস।

দিনটি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে বিএইচপিআইয়ের অকুপেশনাল থেরাপি বিভাগ, সিআরপি এবং বাংলাদেশ অকুপেশনাল থেরাপি অ্যাসোসিয়েশনের (বিওটিএ) আয়োজনে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

পক্ষাঘাতগ্রস্তদের পুনর্বাসন কেন্দ্র সিআরপির হলরুমে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অকুপেশনাল থেরাপি চিকিৎসা সেবা এবং এ সেবায় নিয়োজিত পেশাজীবীদের সম্পর্কে দেশব্যাপী প্রচারণাই এবারের দিবসের মূল লক্ষ্য।

সিআরপির নির্বাহী পরিচালক ড. মোহাম্মদ সোহরাব হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আনোয়ার হোসেন। এ ছাড়া বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিলের রেজিস্ট্রার (যুগ্ম সচিব) সৈয়দ মেহেদি হাসান।

অনুষ্ঠানে স্ট্রোক চিকিৎসায় অকুপেশনাল থেরাপি ও পুনর্বাসন চিকিৎসা বিষয়ক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিলের নির্বাহী সদস্য বিওটিএ’র সাধারণ সম্পাদক, অকুপেশনাল থেরাপিস্ট ডা. শামীম আহম্মদ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্গানোগ্রামে অকুপেশনাল থেরাপিকে একটি বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করছি। ২০২৪ সাল থেকে আমরা একটি রিহ্যাবিলিটেশন ইনস্টিটিউট করার পদক্ষেপ হাতে নিয়েছি। এখান থেকে পিএইচডি, এমফিল ও মাস্টার্স কোর্স করানো হবে। তবে এটি করতে গিয়ে অনেক বাধার মুখে পড়তে হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে স্ট্রোক, মেরুদণ্ডে আঘাত, ডিমেনশিয়া, ডিপ্রেশন, সিজোফ্রোনিয়া ইত্যাদি ব্যাপকভাবে বেড়েছে। সেইসঙ্গে বাড়ছে নিউরো-ডেভলপমেন্টাল ডিজঅর্ডার যেমন, অটিজম, সেরিব্রালপালসি, বুদ্ধি প্রতিবন্ধিতা ইত্যাদি। ফলে মানুষ শারীরিক, মানসিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং দৈনন্দিন কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে। যার বিরূপ প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে। এমতাবস্থায় অকুপেশনাল থেরাপি চিকিৎসা অপরিহার্য, যে চিকিৎসার মাধ্যমে মানুষ আবার তার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারে।

বক্তারা আরও বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে বাংলাদেশের প্রায় ২ কোটির বেশি লোক বিভিন্ন ধরনের শারীরিক প্রতিবন্ধকতার শিকার। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রী প্রাপ্ত অকুপেশনাল থেরাপিস্টের সংখ্যা মাত্র ৪০৮ জন, যা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। তাই বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য নিয়োজিত প্রায় শতাধিক সংস্থায় অকুপেশনাল থেরাপিস্টের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় অকুপেশনাল থেরাপি চিকিৎসা সেবার ভূমিকা ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সকলের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে ‘‘স্ট্রোক চিকিৎসায় অকুপেশনাল থেরাপি’’ প্রতিপাদ্য নিয়ে অকুপেশনাল থেরাপি দিবস পালিত হচ্ছে।

সিআরপি’র প্রধান কার্যালয় সাভার ছাড়াও এর প্রতিটি শাখায় দিবসটি উদ্‌যপন করা হয়েছে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়ে কাজ করে, তারাও বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করছে বলে জানান বক্তারা।