শীতকালে শ্বাসকষ্ট বাড়ার শঙ্কা বেশি। প্রাকৃতিক নানা কারণ এর জন্য দায়ী। তাই আগেই যাদের শ্বাসকষ্টের সমস্যা রয়েছে তাদের শীতকালে সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত।
শীতে শ্বাসকষ্ট বাড়ার প্রধান কারণগুলো জেনে নিন-
১. ঠান্ডা ও শুষ্ক বাতাস: শীতকালে বাতাস ঠান্ডা এবং শুষ্ক থাকে, যা শ্বাসতন্ত্রকে উত্তেজিত করে। এতে ব্রংকাইটিস বা অ্যাজমার রোগীদের শ্বাসনালী সংকুচিত হয়ে শ্বাসকষ্ট বেড়ে যেতে পারে।
২. শীতকালীন অ্যালার্জি: শীতকালে ধুলা, ধোঁয়া, ফুলের পরাগ বা বাড়ির ভেতরের ছত্রাক (মোল্ড) বেশি সক্রিয় থাকে। এগুলো শ্বাসতন্ত্রে প্রদাহ সৃষ্টি করে শ্বাসকষ্ট বাড়াতে পারে।
৩. সংক্রমণ (ইনফেকশন): শীতে সর্দি-কাশি, ফ্লু, এবং অন্যান্য শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ বেশি হয়। এসব ভাইরাল বা ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ ফুসফুস এবং শ্বাসনালীকে প্রভাবিত করে শ্বাসকষ্ট বাড়িয়ে দেয়।
৪. ঠান্ডার কারণে ব্রংকোস্পাজম: ঠান্ডা বাতাস শ্বাসনালী সংকুচিত করতে পারে (ব্রংকোস্পাজম), যা অ্যাজমা বা সিওপিডি রোগীদের জন্য বিশেষত বিপজ্জনক।
৫. তাপমাত্রার পরিবর্তন: ঠান্ডা থেকে হঠাৎ উষ্ণ পরিবেশে প্রবেশ করলে বা উষ্ণ পরিবেশ থেকে ঠান্ডায় গেলে শ্বাসনালীর ওপর চাপ পড়ে। এটি ফুসফুসের কার্যক্ষমতাকে ব্যাহত করে এবং শ্বাসকষ্ট বাড়ায়।
শীতে শ্বাসকষ্ট কমানোর উপায়-
১. মাস্ক ব্যবহার করুন: ঠান্ডা বাতাস এড়াতে বাইরে বের হওয়ার সময় মাস্ক ব্যবহার করুন।
২. গরম পানীয় পান করুন: শ্বাসনালী আর্দ্র রাখতে গরম পানি বা চা পান করুন।
৩. ইনহেলার ব্যবহার: অ্যাজমা বা সিওপিডি রোগীদের ইনহেলার ব্যবহার করতে হবে নিয়মিত।
৪. অ্যালার্জি প্রতিরোধ: ধুলাবালি এবং অ্যালার্জেন এড়িয়ে চলুন।
৫. পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন: শরীরকে বিশ্রাম দিলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে।
শীতে শ্বাসকষ্ট নিয়ন্ত্রণে রাখতে উপরের কারণগুলো এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাগুলো অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ।





