শিশুদের মনেও উঁকি মারে অবসাদ

0
113
শিশু মনে অবসাদ
ছবি: সংগৃহীত

অবআমাদের জীবনের সবচেয়ে হাসিখুশি দিনগুলো উদ্‌যাপিত হয় ছোটবেলায়। এই সময় মন থাকে নিষ্পাপ। জগতের যাবতীয় মারপ্যাঁচ থাকে যোজন যোজন দূরে। ফলে অকৃত্রিম আনন্দে আলোকিত হয় জীবন। বন্ধুদের সঙ্গে হেসেখেলে, খেলার মাঠে ধুলা উড়িয়ে সময়কে উপভোগ করার সুযোগ মেলে।

তবে আমাদের জীবনযাত্রায় যত আধুনিকতার ছোঁয়া লাগছে, ততই নিত্যনতুন সমস্যা এসে আঘাত হানছে শিশুমনে। জগতের নানান কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে না পেরে সময়ের আগেই শৈশব হারিয়ে যাচ্ছে। খেলার মাঠের বদলে তাদের সঙ্গী হচ্ছে ভিডিও গেম। শান্ত বিকেলে আকাশে ঘুড়ি উড়িয়ে ‘ভো-কাট্টা’ বলার পরিবর্তে তারা মোবাইলেই ঘুড়ি ওড়াচ্ছে।

এর ওপর ছোটবেলা থেকেই ফার্স্ট, সেকেন্ড, থার্ড হওয়ার বাসনা শিশুদের মধ্যে রোপণ করে দেয়া হচ্ছে। আর যখনই সেই কাঙ্ক্ষিত ফল মিলছে না, তখন জুটছে তিরস্কার। এ রকম দমবন্ধকর পরিস্থিতির মধ্যে হারিয়ে যাচ্ছে শিশুর শৈশব। তাদের মনেও বাসা বাঁধছে অবসাদ। আর যদি সঠিক সময়ে বাবা-মায়েরা এই সমস্যার লক্ষণ চিনে উঠতে না পারেন, তাহলে সর্বনাশ। কারণ, তাতে বিপদের আশঙ্কা বাড়বে ১৬ গুণ।

১। ছোটদেরও অবসাদ হয়​

এখনও অনেকে মনে করেন, কেবল বড়দেরই বোধহয় অবসাদ বা ডিপ্রেশন হয়। তবে বিষয়টা একবারেই তেমন নয়। আজকাল ছোট বয়স থেকেই শিশুমনে থাবা বসাচ্ছে অবসাদ। এই সমস্যায় আক্রান্ত শিশুরা অবসাদকে সঙ্গী করেই দিন কাটায়। তারা আনন্দ করতে ভুলে যায়। সারা দিন মন খারাপ করে বসে থাকে। এমনকি বন্ধুদের সঙ্গেও মিশতে চায় না।

মনে রাখবেন, ছোটদের অবসাদ কিন্তু ভয়ংকর সমস্যা ডেকে আনতে পারে। তাই প্রথমেই রোগের লক্ষণ চিনে ব্যবস্থা নিতে হবে।

২। রোগের লক্ষণ কী?​

ছোটদের মনে অবসাদ বাসা বাঁধলে এই সকল উপসর্গ দেখা যায় বলে জানাচ্ছে ওয়েবমেড–
সারাক্ষণ রেগে থাকা
প্রতিনিয়ত মন খারাপ থাকা
রিজেকশন মেনে নিতে না পারা
হঠাৎ করেই খিদে কমে যাওয়া
ঘুম কমে যাওয়া বা অত্যধিক ঘুমানো
হঠাৎ করেই চিৎকার করে কেঁদে ওঠে
মনোযোগ দিতে সমস্যা
সবসময় ক্লান্তি
মাথাব্যথা
বন্ধুদের সঙ্গে মিশতে না চাওয়া
সবসময় ভুলের ভয় পাওয়া
চিন্তাভাবনা করতে সমস্যা হওয়া
বারবার আত্মহত্যা বা মৃত্যুর কথা বলা

এই ধরনের কোনো লক্ষণ দেখলে অবশ্যই সন্তানকে নিয়ে বিশেষজ্ঞের কাছে যান।

৩। কী কারণে ছোটরা আক্রান্ত হচ্ছে অবসাদে?​

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো একটি কারণ নয়, বরং অনেক কারণ মিলেই ছোটদের মধ্যে অবসাদ তৈরি করছে। এ ক্ষেত্রে শারীরিকভাবে ফিটনেসের অভাব, বন্ধুবান্ধবের অভাব, পিতামাতার খারাপ ব্যবহার, নিয়মিত লাঞ্ছনা, মারধর এবং বাড়িতে আগেও কারো এমন সমস্যা থাকলে ছোটরা অবসাদে আক্রান্ত হতে পারে। তাই প্রত্যেক বাবা-মাকেই এই বিষয়গুলো অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে। তবেই শিশুকে এই জটিল অসুখ থেকে বাঁচাতে পারবেন।

৪। মনোবিদের পরামর্শ নিতে হবে​

উপরোক্ত কোনো লক্ষণ আপনার সন্তানের মধ্যে দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে লক্ষ করলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে ফেলুন। বিশেষজ্ঞ আপনার সন্তানের সঙ্গে কথা বলেই গোটা বিষয়টা আঁচ করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে প্রশ্ন-উত্তর ও কিছু টাস্কের মাধ্যমেই মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা বাচ্চার মানসিক পরিস্থিতি সম্পর্ক ধারণা করে নিতে পারেন। তবে চিন্তা নেই, কাউন্সেলিং ও বিহেভিয়ারাল থেরাপির মাধ্যমেই এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। তবে প্রয়োজনে শিশুকে অ্যান্টিডিপ্রেশন্ট ওষুধও দেয়া হতে পারে।

মনে রাখবেন, এই ধরনের সমস্যা প্রতিরোধে বাবা-মাকে এগিয়ে আসতে হবে। এ ক্ষেত্রে কতগুলো বিষয় মাথায় রাখা জরুরি।

যেমন: শিশুর ওপর অহেতুক চাপ তৈরি করবেন না। তাকে নিজের শৈশবে বাঁচতে দিন। তার সঙ্গে খারাপ কিছু ঘটলে রুখে দাঁড়ান। আপনারা তার পাশে থাকলেই অনায়াসে সে এই সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে।