রান্নায় অনেক সময় ভুলবশতই লবণ বেশি হয়ে যায়। তখন সে খাবারটি আর খাওয়ার উপযোগী থাকে না। তাই খাবারে লবণের পরিমাণ বেশির জন্য কেউ খেতে না পারলে কষ্ট তো হবেই। তবে এ থেকে পরিত্রাণের উপায় আছে। এতে সময়ও লাগবে কম। আসুন জেনে নেই এই পরিস্থিতি চটজলদি সমাধানের উপায়-
ময়দা বা আটার বল
তরকারিতে লবণ বেশি হয়ে গেলে ছোট ছোট আটা বা ময়দার বল তৈরি করে রান্নায় দিয়ে দিন। এই বলগুলো লবণ শুষে নেবে। তবে রান্না নামানোর আগে এই বলগুলো তুলে নিতে ভুলবেন না।
ফ্রেশ ক্রিম
ফ্রেশ ক্রিম সব সময় যদিও হাতের কাছে থাকে না। তবুও যদি ফ্রেশ ক্রিম বাড়িতে থাকে, তাহলে সেটা রান্নায় অল্প একটু মিশিয়ে দিন। এতে তরকারির গ্রেভি বা ঝোল ঘন হয়ে যাবে এবং অতিরিক্ত লবণাক্ততা দূর করবে।
টক দই
বাড়িতে আর কিছু থাক বা না থাক, টক দই থাকেই। অনেক গৃহিণীই রান্নায় দই ব্যবহার করেন। রান্না চেখে যদি বোঝেন লবণ বেশি, তাহলে এক চা চামচ দই তাতে দিয়ে দিন। টক দইয়ের প্রভাবে বাড়তি লবণের প্রভাব কেটে যাবে। সেই সঙ্গে স্বাদও বাড়বে। এক্ষেত্রে তরকারি এবং আপনার পছন্দের ওপর নির্ভর করে দই টক না মিষ্টি দই দিবেন।
দুধ
রান্নায় দুধ দিলেও লবণ কমে। তাই লবণ বেশি হলে অল্প একটু দুধ দিয়ে দিন। এতে লবণের ব্যালেন্স হয়ে যাবে আর রান্নার স্বাদও বাড়বে। মনে রাখবেন, শুকনো তরকারির লবণাক্ত স্বাদ কমাতে ঘন দুধ খুবই কার্যকর। আগে থেকে জাল দেয়া দুধ সেই তরকারিতে ঢেলে কিছুক্ষণ কষান। এটিও তরকারিতে লবণাক্ততা দূর করে পুরো স্বাদে ভারসাম্য রক্ষা করতে পারে।
আলু
রান্নায় যদি হঠাৎ করে লবণ বেশি হয়ে যায় তাহলে ঝটপট একটা আলু ধুয়ে খোসা ছাড়িয়ে রান্নায় দিয়ে দিন। এই বাড়তি আলু অতিরিক্ত লবণ শুষে নেবে। মোটামুটি বিশ মিনিট মতো এই আলু রাখলেই হবে। তারপর প্রয়োজন হলে তুলে দেবেন, না হলে রেখে দেবেন। এ ছাড়া যে সব রান্নায় ঝোল থাকে, সেই রান্নায় এক টুকরা আলুর খোসা ফেলে প্রায় ২০ মিনিটের মতো ফোটান। সেই তরকারি থেকে অতিরিক্ত লবণাক্ত স্বাদ কেটে যাবে।
পেঁয়াজ
কাঁচা বা ভাজা দুই রকম পেঁয়াজ ব্যবহার করতে পারেন। যদি কাঁচা পেঁয়াজ ব্যবহার করেন, তবে দুই টুকরা করে কিছুক্ষণ তরকারিতে রেখে সরিয়ে ফেলুন। এতে অতিরিক্ত লবণ দূর হবে। আর ভাজা পেঁয়াজ ব্যবহার করলে তরকারিতে লবণ দূর হওয়ার পাশাপাশি স্বাদ বাড়বে।
সূত্র: আনন্দবাজার






