নারী-পুরুষ সবার ক্ষেত্রেই রক্তে নির্দিষ্ট পরিমাণে ইউরিক অ্যাসিডের উপস্থিতি থাকে। যেমন স্বাভাবিক অবস্থায় নারীদের রক্তে এর পরিমাণ হলো ২.৪ থেকে ৬.০ মিলিগ্রাম পার ডিএল এবং পুরুষের ক্ষেত্রে ৩.৪ থেকে ৭.০ মিলিগ্রাম পার ডিএল।
শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের পরিমাণ বেড়ে গেলে গেঁটে বাত বা গিরায় ব্যথা, উচ্চরক্তচাপ, কিডনি অকেজো হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। পুষ্টিবিদরা বলছেন, কিছু কিছু খাবার আছে, যেগুলো খেলে শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের পরিমাণ বেড়ে যায়। তাই যারা ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে যাওয়ার রোগী তারা ভুলে কখনো কিছু খাবার খেতে পারবেন না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যারা ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে যাওয়ার সমস্যায় ভুগছেন তাদের কলিজা, মগজ, ফুসফুস, কিডনি ইত্যাদি খাওয়া যাবে না। বেশি চর্বিযুক্ত গরুর মাংস, খাসির মাংস, ভেড়ার মাংস বা মহিষের মাংস খাওয়া যাবে না। এসব মাংস যদি খেতে চান, তাহলে একেবারে চর্বি ছাড়া মাংস অল্প করে খাবেন। এ ছাড়া সামুদ্রিক মাছ এবং শক্ত খোসাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলতে হবে।
সব রকমের ডাল, মটরশুঁটি, শিমের বিচি, কাঁঠালের বিচি ইত্যাদি খাওয়া পরিহার করতে হবে। মধু, চিনির সিরাপ, চিনিযুক্ত পানীয়, বিশেষ করে প্রক্রিয়াজাত পানীয় একেবারেই খাওয়া যাবে না। পালং শাক, পুঁই শাক, ব্রকলি, ফুলকপি এড়িয়ে চলতে হবে। এ ছাড়া মাশরুমও খাওয়া যাবে না।
পিউরিনযুক্ত খাবারও খাওয়া যাবে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ, এ উপাদান শরীরে ইউরিক অ্যাসিডে পরিবর্তিত হয়। হাই পিউরিন খাবারের মধ্যে রয়েছে অ্যালকোহল, কোল্ড ড্রিংকস, অর্গান ও রেড মিট, কাঁকড়া, লবস্টার, মিষ্টিজাতীয় খাবার ইত্যাদি। এসব খাবার রক্তে ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে যাওয়ার রোগীদের জীবনে অসময়ে ইতি ঘটাতে পারে।
তাই এসব খাবার থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকুন। আর বেশি বেশি পানি পান করুন। কারণ, প্রতিদিন পান করা তিন লিটার পানি শরীরের যেকোনো বিষ বের করার ক্ষমতা রাখে। পাশাপাশি ইউরিক অ্যাসিডও নিয়ন্ত্রণে রাখে।





