বিষণ্নতা মানেই কি শুধুই মন খারাপ?

0
185
বিষণ্ণতা
ছবি: সংগৃহীত

মন খারাপ, ভালো লাগে না, মুড অফ কিংবা শরীর খারাপ–এমন সমস্যা যেন এখন নিত্যসঙ্গী। কখনো মনে হয় হাত-পা জ্বালাপোড়া করছে আবার কখনো মনে হয় বুকে ব্যথা করছে। মনে হয় এবার মরেই যাব। মানুষের এমন মনে হওয়াকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বিষণ্নতা বলা হয়। চিকিৎসকরা বলছেন, জ্বর, টাইফয়েড, জন্ডিসের মতোই ভিষণ্নতা একটি রোগ।

এ বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মানসিক রোগ বিভাগের রেজিস্ট্রার ডা. রাইসুল ইসলাম বলেন, ‘কারো মধ্যে এ ধরনের বৈশিষ্ট্য যদি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত থাকে অর্থাৎ কমপক্ষে যদি দুই সপ্তাহ থাকে, তাহলে আমরা বলে থাকি তিনি বিষণ্নতায় ভুগছেন।’

বিশ্বে প্রতি ১০০ জন মানুষের মধ্যে ৫ জন ভুগছেন বিষণ্নতায়। নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান না থাকলেও এ সংখ্যা বাংলাদেশেও কম নয়। পারিবারিক, সামাজিকসহ নানা কারণেই বিষণ্নতায় ভুগছেন মানুষ। এ সংখ্যা পুরুষের তুলনায় নারীরাই বেশি।

ডা. রাইসুল বলেন, দিন দিন বেড়েই চলেছে বিষণ্নতায় ভোগা রোগীর সংখ্যা। এ জন্য দেখতে হবে আক্রান্ত রোগীর সামাজিক সমর্থন কতটুকু, পারিবারিক বন্ধন কেমন, তারা চাকরি হারিয়েছেন কি না, পরিবার থেকে আলাদা কি না, কিংবা বৈবাহিক জীবনে বিচ্ছেদ হয়েছে কি না। এই বিষয়গুলো একজন মানুষকে বিষণ্নতার দিকে ঠেলে দেয়।

সঠিক চিকিৎসা নিলে ৮০ শতাংশ বিষণ্নতার রোগীই সুস্থ হয়ে ওঠেন। সেই সঙ্গে সমন্বিত প্রচেষ্টায় বিষণ্নতার প্রবণতা কমে আসবে বলেও জানান এই চিকিৎসক।

ডা. রাইসুল আরও বলেন, যদি কারো মৃদু মাত্রার ডিপ্রেশন হয় তাহলে শুধু কাউন্সেলিংয়ে ভালো হয়ে যাবে। তবে ডিপ্রেশনের মাত্রা বেশি হলে তার জন্য ওষুধ লাগবে। তখন ওষুধ ছাড়া ডিপ্রেশন ভালো হবে না। এ ছাড়া ডিপ্রেশনের প্রবণতা কমাতে মিডিয়ার ভূমিকা আছে, চিকিৎসকদের ভূমিকা আছে, সরকারের ভূমিকা আছে; সেই সঙ্গে সাধারণ মানুষেরও ভূমিকা আছে। অর্থাৎ, সবার সমন্বিত প্রচেষ্টা থাকলে ডিপ্রেশনের প্রবণতা কমানো সম্ভব।

বিষণ্নতায় শুধু মন খারাপ নয়, দেখা দেবে আরও কিছু লক্ষণ। এ সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি পরিবারকে সময় দেয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।