বন্ধ্যাত্ব কি ?
দুই বছর বা এর অধিক সময় কোনো ধরনের জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ছাড়া গর্ভধারণে ব্যর্থ হলে তাকে ডাক্তারি ভাষায় বন্ধ্যাত্ব হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়। সাধারণত প্রতি ১০০ জন দম্পতির মধ্যে ৮৪ জন প্রথম বছরে এবং ৯২ জন দ্বিতীয় বছরের মধ্যে গর্ভধারণ করতে সমর্থ হন। তাই বলা যায়, প্রতি ১০০ জন দম্পতির মধ্যে ৮ জন বন্ধ্যাত্বের শিকার হন।
যেসব কারণে নারীদের বন্ধ্যাত্ব হয়
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, সন্তান ধারণের চেষ্টা করার পর টানা এক বছর সময়কাল যদি কেউ সফল না হন তাহলে তাকে ইনফার্টাইল বা সন্তান ধারণে অক্ষম হিসেবে গণ্য করা হয়।
বাংলাদেশে কত শতাংশ দম্পতি বন্ধ্যাত্বের সমস্যায় ভুগছেন, তার সঠিক পরিসংখ্যান নেই।
দেখা যায় দম্পতিদের মধ্যে ৪০ শতাংশ ক্ষেত্রে স্ত্রী এবং একই সংখ্যক স্বামীদের শারীরিক সমস্যা থাকে। বাকি ১০ ভাগ ক্ষেত্রে দুজনেরই সমস্যা থাকে। কিন্তু ১০ ভাগ ক্ষেত্রে সমস্যা অজানা থেকে যায়।
বন্ধ্যাত্ব নারী ও পুরুষ উভয়েরই হতে পারে।
নারীরা প্রধানত যেসব কারণে সন্তান ধারণে অক্ষম হয়ে থাকেন
- প্রেগন্যান্সির জন্য জরুরি পলিসিস্টিক ওভারি, যার মাধ্যমে একটা করে ওভাম আসার কথা, সেটা আসে না।
- জরায়ুর কিছু সমস্যা থাকে যা জন্মগত হতে পারে আবার অসুখের কারণে হতে পারে।
- জন্মগত সমস্যার কারণে হয়ত ডিম আসছে না, তার টিউব ব্লক, জরায়ু যেটা আছে সেটা বাচ্চাদের মতো।
- আরও কিছু অসুখ আছে, যেমন: ওভারিয়ান চকলেট সিস্ট, এন্ডোমেট্রিওসিসের কারণে হতে পারে।
- হরমোনের কারণেও হতে পারে। হরমনের অস্বাভাবিক মাত্রায় নিঃসরণ : কিছু কিছু হরমোন যেমন প্রলেক্টিন, থাইরয়েড হরমোন অথবা পিটুইটারি FSH, LH হরমোনের অস্বাভাবিক মাত্রায় নিঃসরণ ও অভুলেশন ব্যাহত করে।
- আর যৌনবাহিত রোগের কারণে মেয়েদের প্রজনন অঙ্গগুলোর ক্ষতি করে। সেজন্য বন্ধ্যাত্ব হতে পারে।
পুরুষের যেসব কারণে বন্ধ্যাত্ব হয়
একটা কারণ এজোস্পার্মিয়া, অর্থাৎ বীর্যের মধ্যে শুক্রাণু নেই। তার নালির কোথাও বাধা সৃষ্টি হয়েছে তাই শুক্রাণু মিলতে পারছে না। শুক্রাণু তৈরি হওয়ার যে স্থান অণ্ডকোষ, কোন কারণে সেটি তৈরিই হয়নি।
- অনেক সময় শুক্রাণু থাকে কিন্তু পরিমাণে কম থাকে।
- আবার শুক্রাণুর পরিমান ঠিক আছে কিন্তু মান ঠিক নেই। যার ফলে সে ডিম ফার্টিলাইজ করতে পারে না।
- এছাড়া টেস্টোস্টেরন হরমোনও ‘সিক্রেশন’ হতে হবে।
- প্রজনন অঙ্গে কোন ধরনের আঘাত
- অস্ত্রোপচারের কারণে সৃষ্ট বাধা
- প্রজনন অঙ্গে যক্ষ্মা
- ডায়াবেটিস
- ছোটবেলায় মাম্পস
- এমনকি মাথায় চুল গজানোর ঔষধও পুরুষদের সন্তান ধারণের অক্ষমতার উৎস।
যেমন থাইরয়েডের সমস্যার কারণে হতে পারে।
বন্ধ্যাত্ব কিভাবে নির্ণয় করা হয়
রক্ত পরীক্ষাগুলো
Ø প্রোজেস্টেরন পরীক্ষা
Ø ফলিকল স্টিমুলেটিং হরমোন
Ø অ্যান্টি মুলেরিয়ান হরমোন
Ø থাইরয়েডের ক্রিয়ার পরীক্ষা
Ø প্রোল্যাক্টিন মাত্রার পরীক্ষা
Ø ওভারিয়ান রিসার্ভ নির্ণায়ক পরীক্ষা
Ø প্রসাব পরীক্ষা
Ø ইমেজিং পরীক্ষা এবং পদ্ধতি
Ø আলট্রাসাউন্ড
Ø সোনোহিস্টেরোগ্রাফি
Ø হিস্টেরোস্কোপি
Ø ল্যাপারোস্কোপি
Ø সিমেন (বীর্য) পরীক্ষা
যে ধরনের চিকিৎসা রয়েছে
হরমোন ইনজেকশন দেওয়া হয়
- পুরুষদের জন্য ঔষধ দিয়ে শুক্রাণু বাড়ানো যেতে পারে।
- যদি পুরোপুরি ‘অবস্ট্রাকশন’ হয়ে থাকে যে, শুক্রাণু আসছে না, তাহলে দেখতে হবে অণ্ডকোষটা সক্রিয় আছে কিনা।
অণ্ডকোষ সক্রিয় থাকলে সেখান থেকে সুঁই দিয়ে শুক্রাণু নিয়ে এসে টেস্টটিউব পদ্ধতিতে সন্তান জন্ম দেয়া যায়।
- সন্তান জন্মদানে অক্ষম দম্পতির দেহ থেকে শুক্রাণু ও ডিম্বাণু সংগ্রহ করে কৃত্রিম পরিবেশে তা নিষিক্ত করে পুনরায় স্ত্রীর জরায়ুতে স্থাপন করা বা টেস্টটিউব বেবি নেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
Ø আজকাল অনেকেই পেশাগত কারণে সন্তান ধারণে সময় নেন, সেটি এক এসময় সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
মানুষের জীবনযাত্রায় যে পরিবর্তনগুলো আনতে হবে
- মেয়েদের খাদ্যাভ্যাস ঠিক করতে হবে।
- ক্যালরি খাওয়া কমাতে হবে।
- ঘরে রান্না খাবার খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে।
- ব্যায়াম করতে হবে।
- শরীরের স্বাভাবিক ওজন রক্ষা করতে হবে।
- জীবনাচারণ পরিবর্তন করতে হবে।
- দিনে ঘুমানো, রাতে জেগে থাকার মত অভ্যাস বদলাতে হবে।
- বয়স থাকতে বাচ্চা নিতে হবে।






