ফুড পয়জনিং বা খাদ্যে বিষক্রিয়া একটি পরিচিত পেটের সমস্যা। অসাবধানতাবশত কোনো কারণে আমাদের খাবারে জীবাণু আক্রমণ করলে, সেই খাবার খাওয়ার পরে যেই অসুস্থতা দেখা দেয় তাকেই বলে ফুড পয়জনিং৷
এটি সাধারণত খুব একটা মারাত্মক হয় না। সচরাচর এক সপ্তাহের মধ্যেই ভাল হয়ে যায়। ফুড পয়জনিং এ সাধারণত বমি, পাতলা পায়খানা, জ্বর, পেটব্যথা এগুলো হয়ে থাকে।
শিশু অথবা বয়স্ক যেই এতে আক্রান্ত হোক না কেনো, ফুড পয়জনিং এর চিকিৎসা সাধারণত বাড়িতেই করা যায়।
ফুড পয়জনিং এর কারণ
১. সাধারণত বাসি-পচা, অস্বাস্থ্যকর ও জীবাণুযুক্ত খাবার এবং রাস্তার যত্রতত্র খাবার, ধুলাবালি মিশ্রিত খাবার খেলে ফুড পয়জনিং হওয়ার আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি থাকে।
২. খাবার রাখার পাত্র ভালোভাবে পরিষ্কার না থাকলেও এ সমস্যা হতে পারে।
৩. অপরিষ্কার বা নোংরা হাতে খাবার খেলে, খাওয়ার আগে হাত ভালো করে না ধুলেও ফুড পয়জনিং হতে পারে।
৪. রাস্তায় যত্রতত্র তৈরি শরবত বা ধুলোবালি মাখা পানীয় থেকে ফুড পয়জনিং হতে পারে। কারণ রাস্তার খাবার বেশির ভাগ সময় অপরিষ্কার থাকে ও বিক্রেতার পরিচ্ছন্নতা নিয়েও সন্দেহ থাকে।
৫. সঠিক উপায়ে খাবার সংরক্ষণ না করা হলে বা দীর্ঘসময় ধরে অসংরক্ষিত বা খোলা অবস্থায় ফেলে রাখা খাবার খেলেও ফুড পয়জনিং হয়ে থাকে।
ফুড পয়জনিং এর লক্ষণ
খাদ্যে বিষক্রিয়ার সাধারণ কিছু লক্ষণ হলো—
১. বমি বমি ভাব বা বমি
২. পাতলা পায়খানা / ডায়রিয়া
৩. পেট কামড়ানো
৪. শরীরের তাপমাত্রা ৩৮° সেলসিয়াস/১০০.৪° ফারেনহাইট বা তার বেশি হওয়া
৫. অসুস্থ বোধ করা। যেমন: ক্লান্তি, গায়ে ব্যথা অথবা গায়ে কাঁপুনি ওঠা
ফুড পয়জনিং হলে কী করবেন
ফুড পয়জনিং এর চিকিৎসা সাধারণত ঘরে থেকে নিজে নিজেই করা যায়। এর জন্য ডাক্তার দেখানো অথবা হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন হয় না৷ বমি, জ্বর বা পেট খারাপ সাধারণত এক সপ্তাহের মধ্যেই সেরে যায়।
তবে আক্রান্ত ব্যক্তিকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে এবং বেশি বেশি ডাবের পানি, স্যালাইন, শরবত ইত্যাদি খাওয়াতে হবে। যেহেতু পায়খানা বা বমির সাথে শরীর থেকে অনেকটা পানি চলে যায় তাই এ সময়ে প্রচুর পরিমাণে পানি ও তরলজাতীয় খাবার, শরবত, ফলের জুস খেতে হবে। প্রয়োজনে খাবার স্যালাইন পান করতে হবে।
অবস্থা বেশি খারাপ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
ফুড পয়জনিং প্রতিরোধ
খাদ্যে বিষক্রিয়ার সম্ভাবনা এড়াতে কার্যকর উপায় এখানে আলোচনা করা হলো—
১. খাবার খাওয়ার আগে নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। এ ছাড়া হাত সবসময় পরিষ্কার রাখা উচিত।
২. রান্নার জায়গা ও বাসনকোসন সবসময় পরিষ্কার রাখা উচিত। এবং খাবারের পাত্র ভালোমতো পরিষ্কার করে তারপর তাতে খাওয়া উচিত।
৩. রাস্তার খোলা খাবার না খাওয়াই ভালো।
৪. খাবার পানি সবসময় ফুটিয়ে পান করা উচিত।
৫. যতটা সম্ভব টাটকা খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। কয়েক দিন ধরে ফ্রিজে রাখা আছে এমন খাবার খাওয়াও ঠিক না। এ ছাড়া খাবার বাসী হয়ে গেলে সেটা খাওয়া ঠিক না।
৬. খাবার ভালোমতো ঢেকে রাখা উচিত, নয়তো বিভিন্ন ধরনের কীটপতঙ্গ খাবারে বসে জীবাণু ছড়াতে পারে।
৭. খাবার পর্যাপ্ত উত্তাপ দিয়ে ভালোমতো রান্না করা উচিত। খাবার যেন আধা কাঁচা না থাকে।
৮. মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার না খাওয়া উচিত।






