দেশে পাঁচজনে একজনের ‍উচ্চ রক্তচাপ, প্রতিরোধের উপায়

0
455
মেডিকেল
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে প্রতি পাঁচজনের একজনের উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে। দুঃখের বিষয় হলো, চিকিৎসা দূরে থাক, তাদের মধ্যে অর্ধেক মানুষ জানেই না যে তাদের এটা আছে। সঠিক পদ্ধতিতে রক্তচাপ পরিমাপ না করলে উচ্চ রক্তচাপ থাকা সত্ত্বেও তা ধরা নাও পড়তে পারে। ফলে পরে হৃদরোগ, ব্রেন স্ট্রোক ও কিডনির স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে। অন্যদিকে ভুল পরিমাপের জন্য স্বাভাবিক রক্তচাপকেও উচ্চ রক্তচাপ হিসেবে নির্ণয় করার ঝুঁকি থাকে। ২০২২ সালের এক গবেষণায় জানা যায়।

উচ্চ রক্তচাপ (হাইপারটেনশন) কি?
সাধারণভাবে রক্তচাপ ১৪০/৯০ (মিলিমিটার পারদ)-এর বেশি হলে তাকে উচ্চ রক্তচাপ হিসেবে ধরা হয়। তবে রক্তচাপ কত হলে চিকিৎসা করতে হবে বা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে রাখতে হবে তা নির্ভর করে হৃদরোগের ঝুঁকির মাত্রা বাড়ায় এমন আরো রোগ (ডায়াবেটিস, রক্তে চর্বির উচ্চমাত্রা) আছে কি না তার ওপর।

প্রি হাইপারটেনশন কি?
রক্তচাপ যখন ১২০-১৩৯/৮০-৮৯ (মিলিমিটার পারদ চাপ) হয় তখন তাকে প্রি-হাইপারটেনশন বা উচ্চ রক্তচাপের পূর্বাবস্থা হিসেবে ধরা হয়। প্রি-হাইপারটেনশন নির্ণয় করা গেলে জীবনাচারণে কিছু সহজ পরিবর্তনের মাধ্যমে উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধ করা যায়।

উচ্চ রক্তচাপের কারণ
৯৫ শতাংশ ক্ষেত্রে উচ্চ রক্তচাপের কোনো নির্দিষ্ট কারণ পাওয়া যায় না। তবে কিছু জেনেটিক (জিনগত) গঠন, রক্তনালির বিশেষ বৈশিষ্ট্য, খাদ্যে লবণের পরিমাণ, শরীরের ওজন, শরীরচর্চার অভাব, মানসিক চাপ ইত্যাদি উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ায়। বাকি ৫ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে কিডনি রোগ, হরমোনজনিত সমস্যা এবং কোনো কোনো ওষুধের প্রভাবেও উচ্চ রক্তচাপ হতে পারে। কারণ নির্ণয় করতে পারলে তা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখা যেতে পারে।

প্রতিরোধ ও প্রতিকারের উপায়
আন্তর্জাতিক হাইপারটেনশন সোসাইটির মতে, আটটি সহজ নিয়ম অনুসরণ করে সহজে উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এগুলো হলো—

নিয়মিত সঠিকভাবে রক্তচাপ পরিমাপ করা; পরিমিত পুষ্টিকর খাদ্যগ্রহণ; মানসিক চাপ কমানো; শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ করা; মদ্যপান নিয়ন্ত্রণ; খাদ্যে লবণের পরিমাণ কমানো; নিয়মিত শরীরচর্চা; নিয়মিত ওষুধ সেবনের মাধ্যমে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা।