জ্বর হওয়ার কতদিনের মধ্যে ডেঙ্গু ধরা পড়ে?

0
263
ছবি: সংগৃহীত

বর্তমানে ডেঙ্গু এক আতঙ্কের নাম। আর ডেঙ্গু জ্বর একটি মশাবাহিত ভাইরাল সংক্রমণ। এডিস মশার কামড়ে মানুষ ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে। এই রোগে কেউ তখনই আক্রান্ত হন, যখন মশা সংক্রমিত কোনো ব্যক্তিকে কামড়ে তারপর ভাইরাস বহন করার সময় একজন অ-সংক্রমিত ব্যক্তিকে কামড় দেয়। আগে এই রোগ ঢাকাভিত্তিক হলেও এখন সারাদেশে ছড়াচ্ছে ডেঙ্গু।

দেশজুড়ে প্রতিদিনই বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। ডেঙ্গুতে অনেকেই মৃত্যুবরণও করেছেন। এখন জ্বর হলেই কমবেশি সবাই দুশ্চিন্তায় পড়ছেন ডেঙ্গু ভেবে। তবে জ্বর হওয়ার কতদিনের মধ্যে ডেঙ্গু পরীক্ষা করা উচিত, তা হয়তো অনেকেরই জানা নেই।

জ্বর হলে তা ডেঙ্গুর লক্ষণ কি না বুঝতে আগে রক্ত পরীক্ষা করতে হবে। রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমেই সাধারণত কেউ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত কি না তা শনাক্ত করা হয়।

আপনার যদি ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ থাকে ও আপনার আশপাশে কেউ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয় কিংবা ওই এলাকায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়ে যায় সেক্ষেত্রে আপনারও উচিত দ্রুত ডেঙ্গু টেস্ট করানো।

এডিস মশা কামড়ানোর কতদিন পর লক্ষণ ফুটে ওঠে?
সাধারণত সংক্রমিত মশার কামড়ের ৪-১০ দিন পরে ডেঙ্গুর বিভিন্ন লক্ষণ শরীরে প্রকাশ পেতে শুরু করে। এর সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ হলো জ্বর। তবে ডেঙ্গু জ্বর নিরাময় করতে পারে এমন কোনো নির্দিষ্ট ওষুধ নেই। শিশু ও গর্ভবতী নারীদের গুরুতর ডেঙ্গু হওয়ার ঝুঁকি বেশি। এ ছাড়া যারা পরবর্তী সময়ে আবারও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন তাদের ক্ষেত্রেও ঝুঁকি বেশি।

ডেঙ্গু জ্বরের ক্ষেত্রে কী কী টেস্ট করা হয়?

অ্যান্টিবডি পরীক্ষা
ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য শরীরের নির্দিষ্ট অ্যান্টিবডি তৈরির জন্য সময় প্রয়োজন। শরীরে লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার ৩-৪ দিন বা তার পরে আপনি অ্যান্টিবডি টেস্ট করতে পারবেন। এই আণবিক পরীক্ষা আপনার রক্তের নমুনায় ডেঙ্গু ভাইরাস থেকে জেনেটিক উপাদানের সন্ধান করে।

পিসিআর পরীক্ষা
পিসিআর পরীক্ষা (পলিমারেজ চেইন প্রতিক্রিয়া) হলো এক ধরনের আণবিক পরীক্ষা- যা ডেঙ্গু পরীক্ষা করতে ব্যবহৃত হয়। এই পরীক্ষা লক্ষণ শুরু হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে করা যেতে পারে। সপ্তাহখানেক পরে এই পরীক্ষা করলে সঠিক ফলাফল নাও পেতে পারেন।

পিসিআর পরীক্ষার মাধ্যমে ডেঙ্গুর পাশাপাশি মশাবাহিত অন্যান্য রোগ যেমন- চিকুনগুনিয়া, জিকা শনাক্ত করা হয়।