জ্বর কেন হয়? সেরে উঠুন ঘরোয়া উপায়ে!

0
107
ছবি: সংগৃহীত

বর্ষা মৌসুমে হুটহাট করে জ্বর আসাটা অস্বাভাবিক নয়। প্রকৃতির পরিবর্তনের সঙ্গে আমাদের শরীর দ্রুত মানিয়ে নিতে না পারলে একটু-আধটু অসুখ দেখা দিতেই পারে।

কিন্তু শরীরের তাপমাত্রা একটু বেড়ে গেলেই দুশ্চিন্তায় অনেকে হুটহাট ওষুধ খেয়ে ফেলে। তবে কোনো ধরনের অসুস্থায়ই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবন করা উচিত না। এ ছাড়া আমাদের শরীর একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রা পর্যন্ত জ্বর নিজেই প্রতিরোধ করতে পারে।

জ্বর কী?
মূলত জ্বর কোনো রোগ নয়। তবে এটা খুবই কমন বিষয় যা সচরাচর সবারই হয়ে থাকে। জ্বর মূলত পাইরোক্সিয়া নামেও পরিচিত। সাধারণত মানুষের শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৯৭-৯৯ ডিগ্রি ফারেনহাইট হয়ে থাকে। কিন্তু শরীরের তাপমাত্রা যখন এর উপরে চলে যায় তখনই সেটাকে জ্বর বলে গণ্য করা হয়।

জ্বর কেন হয়?
মূলত জ্বর হয় পাইরোজেনের কারণে। আর এর জন্য জ্বরকে পাইরোক্সিয়া নামেও বলা হয়। পাইরোজেন হলো বিভিন্ন রকমের মাইক্রোঅর্গানিজম এবং সাবস্ট্যান্সের সমন্বয়।

এ ছাড়া কিছু প্রোটিন, এবং প্রোটিন থেকে উদ্ভূত পদার্থের কারণেও জ্বর হতে পারে। আবার ব্যাকটেরিয়ার কোষঝিল্লি থেকে নিঃসৃত লিপোপলিস্যাকারাইড নামক বিষের কারণেও হাইপোথ্যালামিক থার্মোস্ট্যাটের সেট পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়। কিছু পাইরোজেন সরাসরি হাইপোথ্যালামাসের তাপ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে আক্রমণ করে, আবার কিছু পাইরোজেন অপ্রত্যক্ষভাবে আক্রমণ করে সেট পয়েন্ট বাড়িয়ে দেয়।

জ্বর কত প্রকার?

তাপমাত্রা পরিবর্তনের ধরন রোগের উপর নির্ভরশীল। জ্বর এর পরিবর্তনের ধরন থেকেই কখনো কখনো রোগ নির্ণয় সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারেঃ

১. একটানা জ্বরঃ সারাদিন ধরে শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকে এবং ২৪ ঘণ্টায় ১0 সে. এর বেশি তাপমাত্রার পরিবর্তন হয় না।

২. নির্দিষ্ট বিরতিতে জ্বরঃ জ্বর একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বাড়ে এবং পরে তাপমাত্রা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যায়।

৩. স্বল্প বিরতিতে জ্বরঃ শরীরের তাপমাত্রা সারদিন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকে এবং ২৪ ঘণ্টায় ১0 সে. এর চেয়ে বেশি ওঠা নামা করে।

 

জ্বর কমানোর ঘরোয়া উপায়

জ্বর যদি খুব বেশি না হয় বা জ্বর বেশি এলেও তা দ্রুত কমিয়ে সহনশীল পর্যায়ে আনার জন্য কিছু ঘরোয়া উপায়গুলো মেনে চলা যেতে পারে,

১. জ্বর অনুভূত হলে সবার আগে প্রয়োজন বিশ্রাম। এতে সংক্রমণের আশঙ্কা কমে যাবে। এ সময় শরীর যথেষ্ট দুর্বল থাকে। তাই ঠিকঠাক বিশ্রাম নিতে প্রয়োজন পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম। বাড়িতে চেষ্টা করুন পর্যাপ্ত ঘুমিয়ে নেয়ার।

২. জ্বর হলে শরীরের অতিরিক্ত তাপমাত্রা কমানোর অন্যতম কার্যকরী এবং সহজ পদ্ধতি হলো পানিপট্টি দেওয়া। সেজন্য একটি পরিষ্কার রুমাল ভাঁজ করে সেটি পরিষ্কার পানিতে ভিজিয়ে নিন। এরপর ভেজা রুমালটি রোগীর কপালের উপর দিয়ে রাখতে হবে। এভাবে মিনিট দুয়েক পর রুমালটি পুনরায় ভিজিয়ে একইভাবে কপালের উপর দিয়ে রাখতে হবে। এভাবে কয়েকবার করলে শরীরের তাপমাত্রা অনেকটা নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।

৩. জ্বর হলে কুসুম গরম পানিতে গোসল করুন। তবে এই গোসল খুব দ্রুত করতে হবে, বেশি সময় নিয়ে করা যাবে না। আর জ্বর হলে ঠান্ডা পানিতে একদমই গোসল করবেন না। তবে গোসল করতে না চাইলে স্পঞ্জ বাথ নিতে পারেন। এক্ষেত্রে সারা শরীরে ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে দিতে হবে।

৪. এক চা চামচ মধু, অর্ধেকটা লেবুর রস ও এককাপ গরম পানি নিন। এবার সব উপাদান একসঙ্গে মিশিয়ে নিন ভালো করে। এই মিশ্রণ দিনে দুইবার খান। মধুতে আছে অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান, যা শরীরের ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে। এর ফলে ভাইরাসজনিত জ্বর কমানো সহজ হবে। ভাইরাস জনিত রোগের ক্ষেত্রে লেবুর রস ও মধু গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এগুলো শরীরের অতিরিক্ত তাপমাত্রা কমাতে সাহায্য করে।

৫. জ্বরে কমলার রস ও অন্যান্য ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ ফলের রস খেলে অনেকটা উপকার পাওয়া যায়। ভিটামিন-সি ইমিউনিটি সিস্টেমকে ইনফেকশনের বিরুদ্ধে লড়তে সহায়তা করে।

৬. সর্দি-কাশি বা জ্বরের মতো সমস্যায় মধু খুবই উপকারী। অসুখ-বিসুখে মধুর ব্যবহার বেশ পুরনো। মধু ও তুলসীপাতা গলার কফ পরিষ্কার করতে সহায়তা করে। সর্দি-কাশি হলে নিয়মিত সকালে মধু আর তুলসিপাতা একসাথে খেয়ে নিন। কিছুক্ষণ পরেই দেখবেন গলা পুরোপুরি পরিষ্কার হয়ে যাবে।

৭. আদার চা জ্বর কিংবা সর্দি-কাশি থেকে সহজে মুক্তি দেয়। আদা চা তৈরি করতে হলে চায়ের লিকারের মধ্যে চিনি ও আদার ছোট ছোট কুচি মেশান। এরপর ছাঁকনি দিয়ে ছেঁকে নিন চা। চাইলে মেশাতে পারেন লেবুর রস। এটা চায়ের ভিটামিন-সি যোগ করে। এই আদা চা খেলে দুর্বলতা কেটে শরীরকে সুস্থ ও সতেজ করে তোলে।

৮. সর্দিকাশির বা জ্বরের সময় কোনোভাবেই যেন বুকে কফ বসে না যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এর জন্য খেতে হবে প্রচুর তরল। বিশুদ্ধ পানি পানের পাশাপাশি ফ্রুট জুস বা স্যুপ জাতীয় খাবার খান নিয়মিত। তরল খাবার কফকে সহজে বুকে বসতে দেয় না।

৯. জ্বর হলে তরল পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। বেশি খাবার একসঙ্গে খাওয়ানো উচিত নয়। কেননা, এটি শরীরের তাপ উৎপাদন বৃদ্ধি করবে। বদহজম হতে পারে।

১০. জ্বরের সময় সুতি কাপড়ের জামা পরা দরকার, যাতে ভেতর দিয়ে বাতাস প্রবাহিত হয়। দরজা-জানালা খুলে দেবেন, পাখা ছেড়ে দেবেন, যাতে বাতাস চলাচল করে।