ওষুধ ছাড়াই বুক জ্বালাপোড়া-বদহজমের সমাধান জানালেন ডা. তুষার

0
33

ছয়টি রোজা ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। কিন্তু এর মধ্যেই কারো না কারো বুক জ্বালাপোড়া করা, পেট ফাঁপা ফাঁপা লাগা, গলায় টোপলার মতো বেঁধে থাকা, বদ হজম হওয়া, বমি বমি ভাব এরকম কোনো না কোনো উপসর্গ দেখা দিয়েছে।

আর এটা নিরাময়ের জন্য কী ওষুধ খাবেন, সেটা নিয়ে ভাবছেন অনেকেই। কিন্তু ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক মো. সালেহ উদ্দিন মাহমুদ (তুষার) প্রথমেই ওষুধের চিন্তা না করে দিয়েছেন ভিন্ন পরামর্শ। পাঠকদের জন্য তা তুলে ধরা হলো:

ডা. তুষার তার এক ভিডিও বার্তায় বলেছেন, বুক জ্বালাপোড়া করা, পেট ফাঁপা ফাঁপা লাগা, গলায় টোপলার মতো বেঁধে থাকা, বদ হজম হওয়া, বমি বমি ভাব এরকম উপসর্গের জন্য কোন ওষুধটা খাবেন বা কোনটা খেলে ভালো হবেন, সেই কনফিউশনে আছেন।

বাজারে এত ধরনের এই যে লিকুইড আছে, ক্যাপসুল আছে, ট্যাবলেট আছে, স্যাচেট আছে। বিভিন্ন ধরনের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ওষুধ এবং একেকটা থেকে একেকটা ভালো। যেইটা আপনার জন্য কাজ করে সেই ওষুধটাই আপাতত খেয়ে আপনি উপসর্গটা প্রশমিত করেন। কিন্তু আমার পরামর্শ হচ্ছে যেই কাজটা করলে আপনার এই গ্যাসের উপদ্রবটা হচ্ছে সেটাকে অ্যাভয়েড করেন। সেটাকে চিহ্নিত করেন।

তিনি বলেন, কোন ধরনের খাবার খেলে বা কী করলে আপনার এই গ্যাসের সমস্যাটা হচ্ছে। বিশেষ করে অনেক খাবার একসাথে ভরা পেট খেলেন এবং তারপরে সরাসরি শুয়ে পড়লেন, কোনোরকম ফিজিক্যাল অ্যাক্টিভিটির মধ্যে থাকলেন না, তাহলে কিন্তু এই গ্যাসের চাপটা লাগে। বদ হজম হওয়ার সুযোগটা বাড়ে। বাইরের খাবারটা অ্যাভয়েড করতে হবে এবং ভাজা পোড়া খাবারটা অ্যাভয়েড করতে হবে। তাহলেই দেখবেন যে গ্যাসের উপদ্রবটা হচ্ছে না।

ডা. তুষার আরও বলেন, যদি গ্যাসের সমস্যা হয়েই যায় তাহলে কী করবেন? তাহলেও কিন্তু প্রথমে এই ধরনের ওষুধের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে হবে। কিছু কিছু বাসায় বানানো জিনিস আছে, যেমন বেকিং সোডা পানির সঙ্গে মিশিয়ে খেতে পারেন। হাফ চামচ বেকিং সোডা যদি পানির সঙ্গে মিশিয়ে খান, সেটা বেশ উপকারী। এছাড়া আদা চা বা আদা কুচি মুখের মধ্যে চিবালেও কিন্তু গ্যাসের এই চাপটা কমে আসে। খাওয়ার পরে কিছু সময় যদি চুইংগাম চিবান তাহলে অ্যাসিডটাকে নিউট্রিলাইট করতে হেল্প করে।

তিনি বলেন, আমি সব সময় যেটা বলি পানি সর্ব রোগের মহৌষধের মতো। প্রত্যেকবার খাওয়ার পরে যদি যথেষ্ট পরিমাণে পানি খান তাহলে কিন্তু আপনার এই অ্যাসিডটাকে নিউট্রিলাইট করতে হেল্প করবে। আশা করি আগামী রোজাগুলিতে কোনোরকম এই গ্যাসের সমস্যা ফেস করবেন না। ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।’