মশা নিধনে স্প্রে আর ফগিং যে কারণে কাজে আসছে না

0
358

পরিস্থিতি খারাপের দিকে গেলেও কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় দিন দিন বাড়ছে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনসহ এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের কাজ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এডিস মশা নিধনে স্প্রে আর ফগিং যে কোনো কাজে আসছে না, তা স্পষ্ট করেই বলছেন কীটতত্ত্ববিদরা।

মশার অসহনীয় যন্ত্রণায় বছরের পর বছর ধরে ভুগছেন রাজধানীবাসী। তবে এবার পরিস্থিতি যেন অসহনীয় হয়ে উঠেছে। অট্টালিকা কিংবা বস্তিঘর কোথাও মশার যন্ত্রণা থেকে নিস্তার মিলছে না নগরবাসীর।

রাজধানীর টোলারবাগ এলাকায় দেখা যায় মশা প্রজননের ভয়ংকর চিত্র।। কালভার্ট ও রাস্তাঘাটে জমে আছে আবর্জনা ও পানি।

মশার উপদ্রবে অনেকটাই অসহায় এ এলাকার বাসিন্দারা। বৃষ্টি হলেই ডুবে যায় এলাকাটি। বিভিন্ন জায়গা ময়লা-আবর্জনায় পরিপূর্ণ। স্থানীয়দের অভিযোগ, দুই মাস অন্তর দু-তিনবার আসে ময়লা পরিষ্কার ও মশার ওষুধ ছিটাতে। সেই ওষুধও আসছে না কোনো কাজে।

প্রতিবছর সিটি করপোরেশনের বাজেট বাড়লেও তার সুফল মিলছে না। মশক নিধনে দুই সিটি করপোরেশন থেকে নানা পদক্ষেপ নিলেও তাদের কাজ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। কীটতত্ত্ববীদরা বলছেন, স্প্রে, ফগিং কোনো কাজে আসছে না এডিস মশা নিধনে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও কীটতত্ত্ববীদ কবিরুল বাশার ফগিং মেশিনের অকার্যকারিতার কারণও তুলে ধরে বলেন, ফগিং করার জন্য যে কীটনাশক ব্যবহার করা হয়, তা ল্যাবে কার্যকরী হলেও মাঠপর্যায়ে খুব একটা কার্যকরিতা দেখা যায় না। কারণ, বাইরে যখন ফগিং করা হয়, তখন বাতাস থাকে। ওই বাতাসের বেগে ধোঁয়া অনেকটাই মিলিয়ে যায়। ফলে এটা খুব একটা সুফল বয়ে আনছে না।

অ্যাডাল্টিসাইডিংয়ের চেয়ে লার্ভিসাইডিং বেশি জরুরি বলেও মনে করছেন তিনি।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আমদানি করা কীটনাশক বিটিআই লার্ভিসাইডিংয়ে কাজে দিলেও, এর উৎস এবং সরবরাহ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হওয়ায় প্রয়োগ বন্ধ করে দেয়া হয়।