বর্তমানে দেশজুড়ে আতঙ্কের নাম অত্যান্ত সংক্রামক ব্যাধি হাম। দেশের বিভিন্ন জেলায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে ছোঁয়াচে এই রোগ। তবে হামের লক্ষণ দেখা দিলে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের রেজিস্ট্রার ডা. তানিয়া ইয়াসমীন।
সংবাদ মাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, আমাদের জানতে হবে যে হামের লক্ষণগুলা কী; আপনার বাচ্চার জ্বরের সঙ্গে যদি নাকের পানি, কাশি, সর্দি, চোখ দিয়ে পানি পড়া বা চোখ লাল হয়ে যাওয়া, মুখের ভেতরে সাদা সাদা দাগ এবং সারা গায়ে লাল দানা দানা র্যাশ দেখা দেয় তাহলে আপনি সন্দেহ করতে পারেন যে আপনার বাচ্চার হাম হয়েছে।
হাম সাধারণত যে কোনো বয়সের বাচ্চাদেরই হতে পারে জানিয়ে এই চিকিৎসক বলেন, তবে ইদানিং দেখা যাচ্ছে যে বয়স্করাও এতে আক্রান্ত হতে পারে। বিশেষ করে যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম যেমন প্রেগনেন্ট মহিলা বা ডায়াবেটিক বা জটিল কোনো, ক্রনিক কোনো রোগে আক্রান্ত তাদের ক্ষেত্রে হামের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
সাধারণভাবে শিশুর জ্বর হলেই বাবা-মাকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, জ্বর হলে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই, যদি হামের লক্ষণগুলো দেখা যায় তাহলেই আপনারা ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন। আর সাধারণ জ্বরে শুধুমাত্র জ্বরের জ্বরনাশক প্যারাসিটামল ওষুধ খাওয়াবেন এবং অন্যান্য বাচ্চার থেকে বাচ্চাকে আলাদা করে রাখবেন। অবজার্ভ করবেন যে বাচ্চার কোন হামের লক্ষণ দেখা যায় কিনা।
হামের লক্ষণগুলো দেখা দিলে প্রথমেই আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। ডা. তানিয়া বলেন, লক্ষণ দেখা দিলেই আমরা আতঙ্কিত হব না, ভয় পাব না।
খাবারের বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, বাচ্চাকে প্রচুর পরিমাণে তরল খাবার যেমন স্যুপ, পানি ও ফলের রস খাওয়াবেন। বাচ্চাকে আইসোলেটেড করে রাখবেন, বাচ্চা বাইরে যাবে না এবং কোনো স্কুল, খেলাধুলার স্থান বা অন্য কোথাও থেকে বাচ্চাকে বিরত রাখবেন।
এই চিকিৎসক জানান, বাচ্চাকে জ্বরের ওষুধের পাশাপাশি যদি গত ছয় মাসের মধ্যে ভিটামিন এ ক্যাপসুল না খাওয়ানো হয়ে থাকে, তাহলে ভিটামিন এ ক্যাপসুল অবশ্যই খাওয়াবেন ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী। আপনার বাচ্চাকে আপনি বাসায় রেখেই সেবা যত্ন দিতে পারবেন এবং অবজার্ভ করবেন যে বাচ্চার কোনো গুরুতর কোনো লক্ষণ দেখা দেয় কিনা। যেমন নিউমোনিয়া, ব্রেনের ইনফেকশন বা বাচ্চা অতিরিক্ত দুর্বল হয়ে যাওয়া, ডায়রিয়া, পুষ্টিহীনতা এ ধরনের কোনো সমস্যা দেখা দিলে অতিসত্তর চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন।
টিকার বিষয়ে তিনি বলেন, বাচ্চা যদি আগে হামের দুটি টিকা (৯ মাস এবং ১৫ মাসের দুটি টিকা) পেয়ে থাকে, তাহলে আপনি ২১ দিন বাচ্চাকে পর্যবেক্ষণে রাখবেন এবং কোনো সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন। আপনার বাচ্চার বয়স যদি ৯ মাসের কম হয়ে থাকে, তবে তাকে সিম্পটমেটিক চিকিৎসা দেবেন যেমন জ্বরের ওষুধ, ভিটামিন এ ক্যাপসুল এবং বারবার তরল খাবার দিতে হবে। হাম আক্রান্ত রোগীর সাথে যারা এক্সপোজড হয় তাদের ক্ষেত্রে পরামর্শ হচ্ছে, যদি তাদের আগে একটা টিকা দেয়া থাকে তাহলে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তারা দ্বিতীয় টিকা নিয়ে ফেলবেন।
যেসব শিশু টিকা পায়নি তাদের বিষয়ে তিনি বলেন, খুব শিগগিরই হামের প্রাদুর্ভাবের জন্য সরকার থেকে ক্যাচাপ ভ্যাক্সিনেশন শুরু হবে। যেখানে যে সব বাচ্চা আগে টিকা পায়নি তাদেরকে দ্রুতই টিকার আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হবে।






